দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ২০০৬ সালে চূড়ান্ত নিয়োগ বাতিল হওয়া পুলিশের প্রায় সাড়ে ৬০০ জন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ও সার্জেন্টকে পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং তারা অবশ্যই চাকরি ফিরে পাবেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। তবে কী কারণে তা চূড়ান্ত হয়নি, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি। মন্ত্রণালয় আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ইতোমধ্যে প্রেরণ করেছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, পুলিশ বাহিনীতে বর্তমানে ২ হাজার ৭০১টি কনস্টেবল পদ শূন্য রয়েছে। জনস্বার্থে দ্রুততম সময়ে এসব পদে নিয়োগ সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলমান আছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না বলেও কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনে বাধা বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক বিচারপতিকে ঘিরে দেওয়া মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার বক্তব্যে ‘মানিকচোরা’ শব্দ ব্যবহার করলে তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল)সংসদের দ্বাদশ দিনের অধিবেশনে বিচারক বিল রহিতকরণ বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে আখতার হোসেন বিভিন্ন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, উক্ত শব্দটি সংসদের জন্য অশোভনীয় হতে পারে, তবে সংসদের বাইরে এ ধরনের শব্দচয়ন প্রচলিত রয়েছে। তার বক্তব্যে এক বিচারপতির প্রসঙ্গ টানার পর আপত্তিকর অংশটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে ‘এক্সপাঞ্জ’ করা হয়। এ বিষয়ে স্পিকার স্পষ্ট করেন, সংসদের মর্যাদা রক্ষার্থে কোনো ব্যক্তি বা বিচারপতির প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনাটি সংসদীয় শিষ্টাচার ও বক্তব্যের সীমারেখা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্য বিষয়ক সংসদীয় বিতর্কে হামের মৃত্যুর তথ্য ও টিকা সংকট নিয়ে উত্তাপ দেখা দিয়েছে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে হামের বিস্তার, টিকার ঘাটতি ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর বক্তব্য কোনো আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জরুরি বিষয় তুলে ধরা লক্ষ্য। রুমিন ফারহানা জানিয়েছেন, গত ২০ দিনে সন্দেহজনকভাবে ৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, নিশ্চিত মৃত্যু ১৬। তিনি বলেন, প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে একটি শিশুর জীবন, একটি মায়ের কান্না ও পরিবারের ধ্বংসের গল্প রয়েছে। এছাড়া, দেশে ১০ ধরনের টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। ইপিআই কেন্দ্রীয় গুদামে বিসিজি, পেন্টা, ওপিভি, পিসিভি, এমআর ও টিডি টিকার মজুদ শূন্যে নেমে এসেছে। এ বিষয়ে জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সংসদে বলেন, “ডোন্ট গেট নার্ভাস, আই এম ফিট।” তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, তথ্য যাচাই ছাড়া আতঙ্ক ছড়ানো ঠিক নয়। মন্ত্রী জানান, তিনি নিজেও ঝুঁকি নিয়ে মহাখালী সংক্রামক রোগ হাসপাতালে হামের ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছেন এবং একজন শিশুর মৃত্যুর পর কেঁদেছেন। মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, সরকারের উদ্যোগে টিকার মজুদ পুনর্গঠন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও বিশ্বব্যাংক সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। মন্ত্রী পুনরায় বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং আতঙ্ক ছড়ানো এড়ানোই সরকারের লক্ষ্য।
৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), যেখানে সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ হাজার ৬৩১ জন প্রার্থী। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) কমিশনের জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের আটটি বিভাগীয় কেন্দ্রে একযোগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কমিশনের অনুমোদনক্রমে প্রকাশিত এ ফলাফল পিএসসির নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। পিএসসি জানিয়েছে, প্রকাশিত ফলাফলে প্রয়োজনবোধে সংশোধন আনার ক্ষমতা কমিশন সংরক্ষণ করে। লিখিত পরীক্ষায় সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তী ধাপ হিসেবে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশগ্রহণ করতে হবে, যার সময়সূচি পরবর্তীতে যথাযথ মাধ্যমে জানানো হবে। উল্লেখ্য, প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০ হাজার ৬৪৪ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। এ বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে মোট ৩ হাজার ৬৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।