দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ ও সংক্রমণে মোট ১১ শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭ জন উপসর্গ নিয়ে এবং ৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল।
রোববার (১০ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২০৫ জন শিশুর শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ২৭৮ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
আঞ্চলিক বিভাজনে দেখা যায়, মৃত্যুবরণকারী ৪ জনের মধ্যে ৩ জন ঢাকা বিভাগে এবং ১ জন বরিশাল বিভাগে ছিল। একই সময়ে হামের উপসর্গজনিত মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা বিভাগে ৩ জন, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ৫০৩ শিশুর মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ঢাকা বিভাগের। একই সময়ে ১ হাজার ১১৬ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়লেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৪৯ হাজারের বেশি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ৬ হাজার ৮১৯ জনের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনের বেশি, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর সংলগ্ন এলাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচ দিন দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি এবং স্থানীয়ভাবে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোববার (১০ মে) প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়, উত্তরাঞ্চল ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী দিনগুলোতে (১১–১৪ মে) ধাপে ধাপে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেটসহ বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টিপাতের পরিধি ও মাত্রা বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ সময়ে দেশের তাপমাত্রা ওঠানামার মধ্যেই থাকবে—দিন ও রাতের তাপমাত্রা কোথাও সামান্য বাড়তে বা কমতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে আবহাওয়ার ধরন আংশিক পরিবর্তনশীল ও বৃষ্টিপ্রবণ থাকবে।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি পশ্চিমপাড়া এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর পুড়ে গেছে। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। রবিবার (১০ মে) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ফুলসুতি পশ্চিমপাড়া গ্রামের মাসুম মাতুব্বরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা দ্রুত এসে চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকাণ্ডে ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সরকারি সহায়তা দাবি করেছে। এলাকাবাসীও প্রশাসনের জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম-কে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনিক অঙ্গন ও জনমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা, অন্যদিকে ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি প্রশংসাও পাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি ভূমি প্রশাসনে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেন। ভূমি সংক্রান্ত দালালচক্র দমন, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং সেবাগ্রহীতাদের দ্রুত সেবা প্রদানে তাঁর কঠোর অবস্থান ইতোমধ্যে এলাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছে বলে অনেকে মনে করেন। একাধিক সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, আগে যেখানে ভূমি সেবা নিতে অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হতো, সেখানে বর্তমানে প্রশাসনিক কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের আস্থা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান। তবে একই সঙ্গে একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনিয়ম ও অবৈধ সুবিধা বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় অসাধু চক্র ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলছে এবং সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জনসেবামুখী ভূমিকারও মূল্যায়ন প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে মতভেদ থাকলেও ভূমি প্রশাসনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।