নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম-কে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনিক অঙ্গন ও জনমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা, অন্যদিকে ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি প্রশংসাও পাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি ভূমি প্রশাসনে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেন। ভূমি সংক্রান্ত দালালচক্র দমন, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং সেবাগ্রহীতাদের দ্রুত সেবা প্রদানে তাঁর কঠোর অবস্থান ইতোমধ্যে এলাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছে বলে অনেকে মনে করেন।
একাধিক সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, আগে যেখানে ভূমি সেবা নিতে অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হতো, সেখানে বর্তমানে প্রশাসনিক কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের আস্থা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান।
তবে একই সঙ্গে একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনিয়ম ও অবৈধ সুবিধা বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় অসাধু চক্র ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলছে এবং সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জনসেবামুখী ভূমিকারও মূল্যায়ন প্রয়োজন।
স্থানীয় পর্যায়ে মতভেদ থাকলেও ভূমি প্রশাসনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড় বাজারে ভোর থেকেই শুরু হয়েছে রসালো আমের কেনাবেচা। ভ্যান, ট্রাক ও পিকআপে করে বিভিন্ন বাগান থেকে আম এনে বাজারে সাজানো হচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে দফায় দফায় দরাদরি ও বেচাকেনা। বর্তমানে জেলায় আম পাড়ার ভরা মৌসুম চলছে। স্থানীয় চাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আম বাণিজ্য হতে পারে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে উৎপাদন নতুন রেকর্ড ছাড়াতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। তবে এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৫ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়া শুরু হওয়ার পর জেলার বিভিন্ন বাগানে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহ চলছে। চাষিরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। সার, কীটনাশক ও শ্রমিক ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক চাষি লোকসানের আশঙ্কা করছেন। সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া এলাকার কৃষকেরা জানান, শুরুতে বাজারে দাম ভালো থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থিতিশীল না থাকলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তারা বাজার মনিটরিং ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। জেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এবার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষি বিভাগ বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে হাইব্রিড ধানের ফলন বাড়াতে আধুনিক উৎপাদন কৌশল বিষয়ক দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ মে) সকালে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত বীজ ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিডের কৃষিবিদ মোস্কাফিজুর রহমান এবং টিএসও সুজিত মন্ডল। বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করলে কম খরচে বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব, যা কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করবে। অংশগ্রহণকারী কৃষকরা প্রশিক্ষণকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করে মাঠ পর্যায়ে এই জ্ঞান প্রয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। আয়োজকরা জানান, কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকবে।
বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধে অনিশ্চয়তার জেরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি রপ্তানিমুখী কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, যার প্রভাবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সাময়িক অবরোধ ও যানজট সৃষ্টি হয়। বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার তারাবো পৌরসভা এলাকার নোবেল কটন স্পিনিং মিলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা বেতন দাবিতে কর্মবিরতি ঘোষণা করেন এবং পরে মহাসড়কে অবস্থান নেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা বকেয়া থাকায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রাথমিকভাবে মালিকপক্ষ পরিশোধের আশ্বাস দিলেও নির্ধারিত সময়ে অর্থ না পাওয়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এক পর্যায়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়লে উভয়মুখী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। পরে এএইচএম সালাউদ্দিন নেতৃত্বে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শ্রমিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মালিকপক্ষ আগামী কার্যদিবসে বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শ্রম ও শিল্প শান্তি বজায় রাখতে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত আছে।