পবিত্র রমজানে যেখানে ইফতার ৫ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা, সেখানে মাত্র ২–৩ টাকায় ইফতার বিক্রি করে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের ক্ষুদ্র ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ৩৩ জন বিক্রেতাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে শহরের ইকু হেরিটেজ হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আলহাজ্ব কুতুবুল আলম চ্যারিটি ফাউন্ডেশন। সংবর্ধিতদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননার ক্রেস্ট, জায়নামাজ এবং আপ্যায়ন করা হয় নৈশভোজে।
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইরফান আলম ইকু–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন এম আর আলম ঝন্টু।

সংবর্ধনা পাওয়া বিক্রেতারা জানান, জীবনে এই প্রথম তাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এমন সম্মাননা দেওয়া হলো। তারা বলেন, রমজানে ইবাদতের নিয়তে কম দামে ইফতার বিক্রি করেছেন, যদিও তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে কিছুটা লোকসান গুনতে হয়েছে। তবুও এই স্বীকৃতি তাদের সেই ক্ষতি ভুলিয়ে দিয়েছে।
চেয়ারম্যান ইরফান আলম ইকু বলেন, “আপনাদের সম্মানিত করতে পেরে আমরা গর্বিত। আপনারা যে মানবিকতার নজির স্থাপন করেছেন, তা সৈয়দপুরের সুনাম সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছে।”
প্রধান অতিথি সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক বলেন, “ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হয়েও আপনারা যে মানবিকতা দেখিয়েছেন, তা বড় ব্যবসায়ীদের জন্যও শিক্ষণীয়। এই উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক।”
উল্লেখ্য, রমজানজুড়ে সৈয়দপুরে প্রায় ৩৫–৪০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কম দামে ইফতার বিক্রি করেছেন, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য স্বস্তি এনে দেয়।
এছাড়া বিনামূল্যে ইফতার ও সেহরি বিতরণে অবদান রাখায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, গরিব চিকিৎসা সেবা সংগঠন এবং আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর–কেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সংসার, দারিদ্র্য আর সময়ের দীর্ঘ ব্যবধান পেরিয়ে অবশেষে এসএসসি পরীক্ষার হলে বসেছেন নাটোরের ফুলঝড়ি বেগম। ৪০ বছর বয়সী এই নারী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন নিজের ছেলে মনিরুল ইসলামের সঙ্গেই— যা এলাকায় ব্যতিক্রমী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লালপুর উপজেলার নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফুলঝড়ি বেগম ও তার ছেলে দুজনই মোহরকয়া নতুনপাড়া মাধ্যমিক কারিগরি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তারা মধুবাড়ি দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। ফুলঝড়ি বেগম জানান, অল্প বয়সে বিয়ের কারণে তার পড়াশোনা থেমে গেলেও শিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন কখনো হারিয়ে যায়নি। পরিবারের সহযোগিতায় বহু বছর পর সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ভ্যানচালক ও দিনমজুর স্বামী নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষিত মা একটি শিক্ষিত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আর্থিক কষ্টের মধ্যেও স্ত্রীর পড়াশোনার ইচ্ছাকে সমর্থন দিয়েছেন তিনি। লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলহাস হোসেন সৌরভ এ ঘটনাকে নারী শিক্ষা ও আজীবন শিক্ষার অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বয়স নয়— ইচ্ছাশক্তিই শিক্ষার সবচেয়ে বড় শক্তি।
লক্ষ্মীপুরে হামলার মামলায় এক নারীকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানোর পর মানবিক এক দৃশ্যের জন্ম হয়েছে জেলা কারাগার প্রাঙ্গণে। অভিযুক্ত ফারহানা আক্তার শিল্পীর সঙ্গে কারাগারে যেতে হয়েছে তার দুধের শিশুকেও, আর জেলগেটের বাইরে স্কুলড্রেস পরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে তার আরও দুই সন্তানকে। সোমবার (১১ মে) বিকেলে আদালতের নির্দেশে শিল্পী ও আরেক আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার এজাহারে বাদীর ওপর রড দিয়ে হামলার অভিযোগ আনা হলেও মেডিকেল প্রতিবেদনে সাধারণ জখমের উল্লেখ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তাদের দাবি, অভিযোগের প্রকৃতি জামিনযোগ্য হলেও আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে প্রিজনভ্যানে মায়ের কোলে শিশুকে এবং জেলগেটে উদ্বিগ্ন দুই সন্তানকে দেখা যায়। বিষয়টি ঘিরে স্থানীয় মহলে মানবিক ও আইনি আলোচনা তৈরি হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আড়াই বছরের শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন শিল্পী।
পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। আজ সোমবার (১১ মে) সকাল থেকে তারা একাডেমিকসহ সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রধান ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এসময় আন্দোলনরত শিক্ষকরা উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের পদোন্নতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি সংশোধন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দাবি জানানো হলেও প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। শিক্ষকরা বলেন, সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় উপাচার্য দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা শাটডাউন কর্মসূচিতে গেছেন। তারা আরও জানান, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।