পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাগেরহাটের ফকিরহাটে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সদর ইউনিয়নের পাগলা গ্রামের কৃতী সন্তান শেখ ফেরদাউস আলম। কোনো প্রকার প্রচারের মোহ ছাড়াই তিনি একাই ফকিরহাটের প্রায় ৮৬৫টি অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন।
রোববার(১৫ মার্চ) সকাল থেকে পাগলা গ্রামে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশে এই বিশাল সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ৩০০ পরিবারের মাঝে ২৫ কেজি ওজনের ৩০০ বস্তা চাল বিতরণ। মাথায় করে চালের বস্তা নিয়ে যাওয়ার সময় উপকারভোগীদের চোখে মুখে ছিল ঈদের আগাম খুশির ঝিলিক। চাল হাতে পেয়ে এক বৃদ্ধা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "এই এক বস্তা চালে আমার পুরো মাস নিশ্চিন্তে চলে যাবে, আল্লাহ উনার মঙ্গল করুক।"
চালের পাশাপাশি এদিন অসহায় মানুষের মাঝে ৩০০টি লুঙ্গি, ২০০টি শাড়ি ও গামছা এবং নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। তবে শেখ ফেরদাউস আলমের মানবিকতা কেবল ঈদ উপহারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রমজানের শুরু থেকেই তিনি ৬৫টি পরিবারকে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ৬৫টি ছাগল উপহার দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ছাগলগুলো লালন-পালনের জন্য প্রতি মাসে প্রতিটি পরিবারকে ১ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তাও দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত প্রচারবিমুখ এই মানুষটি সবসময় পর্দার আড়ালে থেকে সমাজসেবা করতে পছন্দ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মিজানুর রহমান, শেখ আবুল কালাম ও ইউনুস শেখসহ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তিনি এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করেন। খাদ্য ও বস্ত্র সহায়তার পাশাপাশি, পরিবেশ রক্ষায় তিনি এলাকায় ২৫ হাজার তালগাছ ও ফলজ গাছের চারা রোপণের এক মহতী কর্মসূচিও হাতে নিয়েছেন।
ঈদকে সামনে রেখে যখন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ৩০০ বস্তা চাল ও নগদ অর্থের এই উপহার ফকিরহাটের মানুষের জীবনে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। ফেরদাউস আলমের এই নীরব মানবিকতা এখন পুরো এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের এক শিশু সন্তান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর সন্তানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুরে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে বুড়িমারী - লালমনিরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে পাটগ্রাম পৌরসভার মির্জারকোট মডেল মসজিদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- শরিফুল ইসলাম (৩৮), তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (৩২) এবং তাদের ৪ মাস বয়সী ছেলে সন্তান আব্দুল্লাহ আল হুজাইফা। জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার হিলি এলাকার মনসাপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পাটগ্রামে পদক্ষেপ এনজিওতে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন তারা। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মির্জারকোট এলাকায় পৌঁছালে বুড়িমারী স্থলবন্দরগামী একটি অজ্ঞাত খালি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সুমাইয়া আক্তার নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় শরিফুল ইসলাম ও তাদের শিশু সন্তানকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তারা মারা যান। একই ঘটনায় তাদের আরেক সন্তান শোয়াইব হোসেন (১০) গুরুতর আহত হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়। বড়খাতা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক জানান, ট্রাকের ধাক্কায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি নিয়ে চালক পালিয়ে গেছে। নিহতদের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, নিহতদের মরদেহ পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। অজ্ঞাত ট্রাকটি শনাক্তে করে আটকের চেষ্টা চলছে।
পঞ্চগড়ের বোদায় নিজেকে পাপমুক্ত করে পরিশুদ্ধ ও পুণ্যতা এবং পিতা মাতার আত্মার শান্তির আশায় শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৩ দিনব্যাপী ধর্মীয় বারুণী স্নান উৎসব। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সূর্যোদয়ের পর থেকেই বোদা উপজেলার কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের বোয়ালমারী করতোয়া নদীতে উত্তর স্রোতা পানিতে ওই স্নানোৎসব শুরু হয়। চৈত্রের মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে প্রতিবছর করতোয়া নদীর উত্তরমুখী স্রোতে এই গঙ্গা স্নান অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর স্থানীয় গঙ্গা মন্দির কমিটি বারুণী স্নানোৎসবের আয়োজন করে। এ সময় সনাতন হিন্দুধর্মাবলম্বীরা স্নানের পাশাপাশি পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় পূজা অর্চনা করেন। এখানে পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন বয়সী হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষজন স্নান ও পূজা অর্চনা করেন। স্নান উপলক্ষ্যে এখানে আয়োজন করা হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বারুণী মেলা। এখানে নাগরদোলা, মোটরসাইকেল খেলাসহ বিভিন্ন বিনোদনেরও আয়োজন করা হয়েছে। এ বারুণী স্নান চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। দেবীগঞ্জের দণ্ডপাল থেকে বোয়ালমারী বারুণী স্নানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছেন সৌমিক অধিকারী, তিনি বলেন, ‘দেহ ও মনকে পরিশুদ্ধ করতে এখানে প্রতিবছর আসা হয়। পরিবারের সবাই মিলে স্নান করি এবং পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তি কামনায় পূজা অর্চনা করি।’ নীলফামারীর ডোমার থেকে স্নান করতে এসেছেন প্রমিলা রানী। তিনি বলেন, ‘বাপ-দাদাদের কাছ থেকে শুনেছি, নদীর উত্তরমুখী স্রোতে স্নান করলে পাপ মোচন হয়। তাই এখানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে স্নান করতে এসেছি।’ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ও বোদা উপজেলা প্রশাসনের তদারকিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহ অন্যান্য আয়োজনে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন বিশেষ আনন্দিত বলেও স্নান কমিটির লোকজন জানান।
শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পেছনে না ছুটে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা–এ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত অ্যালামনাই সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে শুধু পরীক্ষার ফলাফল অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে নয়, বরং নিজেদের আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাবে। এ সময় তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই না প্রত্যেকটি ছাত্র শুধু একজন যোদ্ধা হোক, বরং তারা নৈতিকতা ও আদর্শে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক।” অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত তিনজন বর্তমান সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে দোয়া ও ইফতার মাহফিলের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।