নোয়াখালীর চরপার্বতী ইউনিয়নে নদীভাঙনের হুমকিতে পড়েছে এক অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার ‘বীর নিবাস’। ছোট ফেনী নদীর তীব্র ভাঙনে বসতবাড়িটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
জানা গেছে, সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রায় ১৪ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হকের একমাত্র আশ্রয়স্থল। বর্তমানে বাড়িটি নদী থেকে মাত্র ২০ ফুট দূরে অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে বাড়ির একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আশপাশের এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও মৎস্যপুকুর নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে কয়েকশ পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।
অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক বলেন, জীবনের শেষ সময়টুকু এই বীর নিবাসেই কাটাতে চান তিনি। তবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী হানিফ আনসারী জানান, নদীর বুকে জেগে ওঠা বালুচরের কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে ভাঙন তীব্র হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বালুচর অপসারণ ও অন্তত দুই হাজার জিওব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা নিলে এলাকা রক্ষা করা সম্ভব।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পুরো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসন্ন বর্ষার আগে চরপার্বতী ও চর হাজারী ইউনিয়নে নদীভাঙন রোধে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আবেদন করা হয়েছে।
“সুস্থ শ্রমিক কর্মঠ, আসবে এবার নব প্রভাত” প্রতিপাদ্যে পঞ্চগড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস পালিত হয়েছে। শুক্রবার (০১ মে) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, দিনাজপুরের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। পরে সরকারি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুমন চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে শ্রমিক অধিকার, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বক্তব্য দেন। দিবসটি উপলক্ষে শহীদ শ্রমিকদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত, প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন।
নরসিংদীর শিবপুরে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার তিনটি সিলগালা বান্ডেল খাতা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে শিবপুর থানার উপপরিদর্শক মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে শিবপুরের শাষপুর শহীদ মিনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্রিজসংলগ্ন সড়কের পাশে তিনটি বান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন রাহিম নামে এক যুবক। তিনি পরে বান্ডেলগুলো বাসায় নিয়ে যান। পরদিন প্রতিবেশীর মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে এগুলো পরীক্ষার খাতা। এরপর তিনি নিজ উদ্যোগে খাতাগুলো শিবপুর থানায় জমা দেন। শিবপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মাসুদুর রহমান জানান, ২৬৮টি এসএসসি (ভোকেশনাল) ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের খাতা সম্বলিত তিনটি সিলগালা প্যাকেট উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে ইউএনও ও ওসির উপস্থিতিতে পুনরায় সিলগালা করে খাতাগুলো পোস্ট অফিসে জমা দেওয়া হয়। শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পোস্ট অফিসের ডাক পরিবহনের সময় একটি যানবাহন থেকে খাতাগুলো সড়কে পড়ে যায়। তবে সব খাতা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুনরায় সংরক্ষণ করা হয়েছে।
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় বন্য হাতির আক্রমণে মা ও শিশুকন্যার মৃত্যু ঘটেছে—ঘটনাটি এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ খুনিয়াপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ছেমন আরা (২৫) ও তার দুই বছর বয়সী কন্যা আসমা বিবি। তারা একই পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয়ভাবে বসবাস করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ করে তিনটি বন্য হাতির একটি পাল লোকালয়ে প্রবেশ করে বসতঘর ও আশপাশের গাছপালা ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় একরাম মিয়া তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঘর থেকে বের হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাণে রক্ষা পেলেও ছেমন আরা ও তার শিশুকন্যা হাতির আক্রমণের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ঘটনার পর হাতির পালকে বনাঞ্চলের দিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বন বিভাগ। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহত পরিবারটি একটি অনিবন্ধিত বসতিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং ঘটনাটিকে অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।