বিচারিক প্রক্রিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের আশঙ্কার মধ্যে শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলো কামরুল ইসলাম-কে। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাসপাতালে অবস্থানকালে হাজিরা দিতে অস্বীকৃতি জানালেও প্রসিকিউশনের কড়া নির্দেশনার পর প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে তিনি প্রথমে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার ও চিফ প্রসিকিউটরকে অবহিত করলে, প্রসিকিউশন তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দেয়—যেকোনো অবস্থায় আসামিকে আদালতে হাজির করতে হবে।
পরবর্তীতে নির্দেশনা কার্যকর করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করে। এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ ঘোষণার কথা রয়েছে।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেনন-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে রাজধানীর বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় ২৩ জনকে হত্যাসহ গুরুতর অপরাধের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী পূর্বে অব্যাহতির আবেদন করে দাবি করেছেন যে, অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে প্রসিকিউশন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য, আসামিরা রাজনৈতিক প্ররোচনার মাধ্যমে সহিংসতা উসকে দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছেন।
বর্তমানে মামলাটি অভিযোগ গঠন পর্যায়ে রয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী আদেশের ওপর নির্ভর করছে বিচারিক কার্যক্রমের অগ্রগতি।
ফরেনসিক পরীক্ষায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ডিএসসিসির সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান–এর কথোপকথনের অডিওতে কণ্ঠস্বরের মিল পাওয়া গেছে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছেন এক বিশেষজ্ঞ সাক্ষী। বুধবার (২৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জবানবন্দিতে সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের ওই বিশেষজ্ঞ জানান, পরীক্ষিত অডিও ও রেফারেন্স ভয়েস বিশ্লেষণে উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য পাওয়া গেছে। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তিনি ১০ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তার পরিচয় গোপন রাখা হয়। ফরেনসিক বিশ্লেষণে অডিও ক্লিপে শেখ হাসিনা ও ফজলে নূর তাপসের কথোপকথনের পাশাপাশি হাবিবুর রহমানের কণ্ঠস্বরও শনাক্ত হয়েছে বলে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। মামলায় মোট ১১ আসামির মধ্যে দুইজন গ্রেফতার রয়েছেন, বাকিরা পলাতক। প্রসিকিউশন পক্ষ জবানবন্দি ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মোট ৪৯ জন প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন খান এ ফলাফল প্রকাশ করেন। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, নির্বাচিতদের মধ্যে বিএনপি ও তাদের জোট থেকে ৩৬ জন, জামায়াত–এনসিপি জোট থেকে ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোট থেকে ১ জন প্রার্থী রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, প্রক্রিয়াটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা সরাসরি নির্বাচিত হিসেবে গণ্য হয়েছেন। ঘোষিত নামগুলোর মধ্যে বিএনপি জোট ও সমমনা রাজনৈতিক জোটভুক্ত একাধিক নারী নেত্রী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াত–এনসিপি জোট ও স্বতন্ত্র জোট থেকেও পৃথকভাবে নারী প্রতিনিধিদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্বাচিতদের তালিকা যথাযথভাবে গেজেট আকারে প্রকাশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে সাবেক হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে নথিপত্র সংগ্রহ ও যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান চলমান রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। দুদক সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে দায়িত্ব পালনকালে সাঈদা মুনা তাসনিম এবং তার স্বামী তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন লিমিটেডসহ একাধিক বাণিজ্যিক ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে তা বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১২টি ভুয়া ও আড়াল করা কোম্পানির মাধ্যমে এই অর্থ লেনদেন ও স্থানান্তর করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে গত বছরের জুন থেকে দুদক আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তরা সংস্থার তলবে সাড়া দেননি বলে জানা গেছে। দুদক জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব নথি বিশ্লেষণ শেষে আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।