নরসিংদীতে এক কর্মকর্তাকে ঘিরে ‘অবস্থান’ বিতর্ক, উঠছে। বদলির আদেশ জারি হয়েছে একাধিকবার। তবুও স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা নেই। এমন অভিযোগ ঘিরে নরসিংদীর প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে চাপা উত্তেজনা।
স্থানীয় মহল বলছে, বিষয়টি এখন শুধু একটি বদলি নয় বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতেও দায়িত্বস্থল নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছিল । তিনি যেখানে কাজ করেছেন সেখানেই একটি বলয় তৈরী করার অপচেষ্টা করেছেন। বিতর্কিত এই কর্মকর্তার নাম মাহমুদা বেগম। তিনি নরসিংদী জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হিসেবে দায়ীত্ব পালন করার সময় গত এক সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে দুটি বদলীর আদেশ জারী হয়।
প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, বদলি আদেশ দ্রুত কার্যকর হওয়াই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু এই ক্ষেত্রে বিলম্ব বা অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, “নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত কেউ এর বাইরে থাকতে পারেন না।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, “বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা চলছে, সিদ্ধান্ত এলে দ্রুত জানানো হবে।”
এদিকে এই কর্মকর্তার অতীত কর্মকান্ড ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি জামালপুর সদরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কাজ করার সময় তার বিরুদ্ধে জামালপুর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তার ভাড়া বাড়ির মালিক ।
সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাসার মালিক আকলিমা খাতুন। তিনি বলেন, জামালপুর পৌর শহরের লিচুতলা এলাকায় তাঁর পাঁচতলা ভবন রয়েছে। সেখানে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা বেগম ভাড়া থাকেন। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি বাড়ির পরিবারের চৌদ্দগোষ্ঠীর জমির কাগজপত্র দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এমনকি ম্যাজিস্ট্র্যাসি ক্ষমতা ব্যবহার করে পাঁচতলা বাড়িটি আইসোলেশন সেন্টার বানাবেন বলে হুমকিও দেন।
আকলিমা খাতুন বলেন, ‘আমি একজন বয়স্ক মানুষ, তাঁর অফিস থেকে আমার জমির বারোটা বাজানোর যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এতে আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ধরনের হুমকি-ধমকি থেকে আমি প্রতিকার চাই।’পরিবারটি তখন দাবি করেছিল, সব হুমকির মুঠোফোনের অডিও ক্লিপ তাদের কাছে রয়েছে। (সুত্র প্রথম আলো ১৮ জুন-২০২০)
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থাকা অবস্থায় এক সাংবাদিককে মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে এই মাহমুদা বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। দৈনিক সংবাদ ও ইংরেজি অবজারভারে কেন্দুয়া উপজেলা প্রতিনিধি হুমায়ূন কবীরকে এ হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। উপজেলার বলাইশিমুল খেলার মাঠের জায়গায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মাণাধীন প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ইউএনও উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে সাংবাদিক সেই ভিডিও নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন।
‘এসময় ইউএনও জানতে চান, সংবাদ সম্মেলনে তার (ইউএনও) দেওয়া বক্তব্য কেন ফেসবুকে দিয়েছে। উপহারের ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় যে মামলা হবে সেই মামলায় তাকে আসামি করার হুমকি দেন এই মাহমুদা বেগম।’ (সুত্র জাগো নিউজ ২৪. কম ১৫ আগস্ট -২০২২)। নরসিংদীতে সম্প্রতি তার নানা অনিয়মের বিচার ও বদলির দাবীতে খোদ জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের ভিতরে মানববন্ধন করে ভুক্তভোগী শত শত নারী পুরুষ। এরপর এঘটনা পত্রিকায় রিপোর্ট হলে সেদিনই রাতে তার বদলির আদেশ হয়। এরপর অদৃশ্য কারণে সোমবার (২৭ এপ্রিল) আবার তাকে পরিকল্পনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়। কিন্তু তিনি নরসিংদীতে থেকে যাওয়ার নানা ফন্দিফিকির করছেন বলে কানাঘুষা চলছে।
নরসিংদীতে জেলা প্রশাসকের দায়ীত্বে ছিলেন এমন এক সাবেক জেলা প্রশাসক জানান, জনপ্রশাসনে বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে এখন এক ধরনের অস্থিতিশীলতা ও ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছ, যা প্রশাসনরে কার্যকারিতাকে প্রশ্নরে মুখে ফেলেছে। সাম্প্রতিক তথ্য ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বদলির আদশে হয়ওে তা কার্যকর না হওয়া এবং পছন্দরে পদে পদায়নরে জন্য তদবরিরে কারণে প্রশাসনিক গতি কমে আসছে। কাজে গতি ফিরিয়ে আনতে হলে দ্রুত অবস্থার উন্নতি করতে হবে বলেও জানান তিনি।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের চর মাদার এলাকায় সড়ক না থাকায় দুই শতাধিক বাসিন্দা দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, একটি কাঁচা বা পাকা সড়ক নির্মাণ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩০ বছর আগে ওই এলাকার মধ্য দিয়ে একটি সড়ক থাকলেও জনবসতি বাড়ার পর সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পুরো মহল্লার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল হলেও সড়ক না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহন, লাশ বহন এবং দৈনন্দিন যাতায়াতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গলিপথই এখন একমাত্র চলাচলের মাধ্যম। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিছা জানায়, জন্মের পর থেকে এলাকায় কোনো চলাচলযোগ্য সড়ক দেখেনি। রিকশাচালক সিজান মিয়া বলেন, জীবিকার জন্য রিকশা চালালেও সড়ক না থাকায় বাড়িতে রিকশা নেওয়া সম্ভব হয় না। চর আমখাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগে এলাকাবাসী সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে আবেদন করেন। তবে সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, সড়কের জন্য জমি বরাদ্দ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসীর দাবি, বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরোনো মানচিত্রভুক্ত সড়কটি পুনরায় সংস্কার করে দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বাগেরহাটে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে দমকা হাওয়ার সঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে উপকূলীয় এলাকায় জনজীবনে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর-কে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে সতর্কতা জারি থাকলেও বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে জেটি এলাকায় ৮টি বিদেশি জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলছে। মোংলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ বলেন, সকাল থেকে আকাশ মেঘলা থাকলেও এখনো বড় ধরনের আবহাওয়াগত প্রভাব পড়েনি। কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে হাত-পাবিহীন নবজাতককে কেন্দ্র করে এক মানবিক ও আবেগঘন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে জন্মদাতা বাবার অস্বীকৃতির বিপরীতে সন্তানের পাশে দাঁড়িয়েছেন মা। নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালে ২২ এপ্রিল জন্ম নেওয়া শিশুটি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বিষয়টি জানার পর বাবা শিশুটিকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান এবং সামাজিক কারণে তাকে ফেলে আসার পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে। তবে মা লিজা সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই বাড়ি ফেরেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সন্তানকে পরিত্যাগ করা তার পক্ষে সম্ভব নয় এবং তিনি তাকে লালন-পালন ও শিক্ষার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নবজাতকের চিকিৎসা ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ফলে শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে মায়ের দায়িত্ববোধ ও মানবিক অবস্থান প্রশংসিত হলেও বাবার আচরণ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।