দেশে হাম ও এর উপসর্গজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হামে এবং ৬ জনের মৃত্যু উপসর্গে হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ১১ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১২ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ১৫১ শিশু এবং নিশ্চিত হামে ২৮ শিশু মারা গেছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৬৮ শিশু সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ১৫০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
এ পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৬৩৯ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। সন্দেহভাজন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২২৫ জনে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৭ হাজার ৬৫৬ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে বলে জানানো হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে শহরের বিমানবন্দর সড়কে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ক্লাব অব সৈয়দপুরের সভাপতি লায়ন মো. জাকির হোসেন মেনন। লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি লায়ন আলহাজ্ব মো. শফিয়ার রহমান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ৭৬টি ইভেন্টে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি স্ট্যান্ডার্ড নার্সারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেধাবী এবং এসএসসি ও জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত ৮৮ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। শেষে প্রধান অতিথি বিজয়ী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংবাদিক ও লায়ন্স ক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সোনালি আঁশখ্যাত পাটশিল্পকে পুনরায় ঘুরে দাঁড় করাতে সরকার বহুমাত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এক সময়ের সমৃদ্ধ পাটশিল্প বর্তমানে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা হারালেও তা পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া টেক্সটাইল ও জুট মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং টেন্ডার মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে মিলটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে। তিনি আরও বলেন, শিল্প খাত পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে গতি ফেরানোই সরকারের মূল লক্ষ্য। দীর্ঘ সময় ধরে শিল্প খাতে স্থবিরতা ছিল বলে মন্তব্য করে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার তা কাটিয়ে উঠতে কাজ করছে। পাট ও বস্ত্র খাতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্ধ মিলগুলোতে বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। এ সময় নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুল ইসলাম, নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল লতিফসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ইলিশের বাজারে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতারা কিনতে পারছেন না, ফলে ঐতিহ্যবাহী এই মাছ অনেকের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে মাছের বাজার ও পৌর মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি ইলিশ সাজানো থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম। বিক্রেতারা জানান, দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই ইলিশ কেনা থেকে বিরত থাকছেন। বর্তমানে ১.২ থেকে ১.৫ কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৩১০০ থেকে ৩৫০০ টাকা, এক কেজির ইলিশ ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা এবং ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট ইলিশের দামও ১৮০০ টাকার নিচে নয়। মাত্র এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদীতে মাছ ধরা কমে যাওয়া ও সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বেড়েছে। পাশাপাশি বৈশাখকে ঘিরে চাহিদা বাড়ার আশঙ্কাও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। ক্রেতারা বলছেন, ইলিশ ছাড়া বৈশাখ কল্পনা করা যায় না, তবে বর্তমান দামে কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বিক্রেতারাও কম বিক্রির কারণে লোকসানের আশঙ্কা করছেন। সব মিলিয়ে বৈশাখের আগে ইলিশের এমন চড়া দাম ও ক্রেতা সংকট বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে।