সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে ২০ হাজার ২৮৮টি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়েনি, ফলে এসব অস্ত্রকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতিমধ্যেই অস্ত্রের মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও অভিযান শুরু করেছে।
ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার মো. ফারুক হোসেন জানান, যেসব অস্ত্র নির্ধারিত সময়ে জমা পড়েনি, তার মালিকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, ভোটকেন্দ্রে সহিংসতায় এসব অস্ত্র ব্যবহার করতে চাইলে মালিকদের গ্রেপ্তার করা হবে।
দেশে মোট ৫৩ হাজার ৭০২টি বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে, যার মধ্যে ব্যক্তির নামে ৪৮ হাজার ২৮৩টি। সরকারি সময়সীমার মধ্যে ২৭ হাজার ৯৯৫টি অস্ত্র জমা পড়লেও ২০ হাজার ২৮৮টি অস্ত্র এখনও অধরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব জমা না হওয়া অস্ত্রের মধ্যে অনেকই রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং আগে নির্বাচনী সহিংসতায় ব্যবহৃত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন ও গণভোটের ঘোষিত তফসিল অনুসারে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকবে, তবে নির্দিষ্ট শর্তে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রার্থী এই নিয়ম থেকে অব্যাহতি পাবেন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত সংকটের প্রেক্ষিতে দেশের ফিলিং স্টেশন ও পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য ডিপো থেকে খালাসের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। শনিবার (২৮ মার্চ) বিপিসি সচিব শাহিনা সুলতানা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থার অধীনে দেশের প্রধান স্থাপনা ও ডিপোগুলো থেকে তেল সরবরাহ প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত হবে। এতে দেশে তেলের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে সকল ফিলিং স্টেশন, পড পয়েন্ট, ডিলার ও পাম্পে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। বিপিসি বলেছে, এই পদক্ষেপ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে এবং দেশের জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সংসদ অধিবেশনে শব্দযন্ত্রের অস্বাভাবিক ত্রুটি ঘিরে সম্ভাব্য অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় তদন্তে নেমেছে কর্তৃপক্ষ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার প্রেক্ষিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। শনিবার (২৮ মার্চ) অনুষ্ঠিত সংসদ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি কেবল প্রযুক্তিগত ত্রুটি নাকি পরিকল্পিত নাশকতা—তা যাচাই করাই হবে কমিটির প্রধান দায়িত্ব। একই সঙ্গে শব্দব্যবস্থার কারিগরি ত্রুটি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রতিকারমূলক সুপারিশও দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রমে সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসের নেতৃত্বে কমিটি কাজ করবে এবং কারিগরি বিশ্লেষণের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হবে। সংসদীয় কার্যক্রম চলাকালে হেডফোন ও সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে সদস্যদের অসন্তোষের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। চিফ হুইপ জানান, সংসদ সদস্যদের জন্য ব্যবহৃত হেডফোন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতেও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে আবাসন বরাদ্দ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় ও গতিশীল করতে সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টায় সংসদ সচিবালয়ের ক্যাবিনেট কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে কমিটিগুলোর কার্যপরিধি, কর্মপদ্ধতি এবং অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলো নির্ধারণে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হতে পারে। একই দিন বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনের সরকারদলীয় সভাকক্ষে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া এবং সংসদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ধারাবাহিক বৈঠকসমূহ সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম সচল করা এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রস্তুতি চলছিল।