শেরপুর সদর উপজেলায় একটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বই ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শেরপুর-১ আসনের নলবাইদ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দুটি ব্যালট বই জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
কেন্দ্র সূত্র জানায়, ১০০ পৃষ্ঠার একটি সংসদ নির্বাচনের ব্যালট বই এবং একটি গণভোটের ব্যালট বই ছিনতাই করা হয়। পরে ধানের শীষ প্রতীকে সিল দেওয়া অবস্থায় ৬০টি সংসদীয় ব্যালট উদ্ধার হলেও গণভোটের পুরো ব্যালট বই এবং সংসদ নির্বাচনের অবশিষ্ট ব্যালট উদ্ধার করা যায়নি। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. শাহীদুল আলম জানান, হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি কেন্দ্রে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে প্রায় এক ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখতে হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর ভোট পুনরায় শুরু হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যালটগুলো বিধি অনুযায়ী বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মো. কামরুল হাসান জানান, ছিনতাই হওয়া ব্যালট উদ্ধারে অভিযান চলছে।
এদিকে একই দিনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হেরুয়া বালুরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুজন আহত হন। পুলিশ জানায়, সংঘর্ষটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। উপজেলার বুড়ির বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিরিণ হক গার্লস হাই স্কুল, মুলঘর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও খোদেজা খাতুন বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল থেকেই নারী ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। কেউ দলবেঁধে, কেউ সন্তান কোলে নিয়েও ভোট দিতে আসেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে অনেক ভোটার জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরেছেন। বেলা ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ৫২টি ভোটকেন্দ্র ও ২৬০টি বুথ রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৮টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। ফকিরহাটে মোট ভোটার ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬৩ হাজার ৭১০ জন ও নারী ৬৫ হাজার ৩৮৭ জন। পোস্টাল ভোট রয়েছে ৯৬৪ জন। এই আসনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে চলছে।
সাতক্ষীরায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের ৬০৯টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ চলছে, যা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেছে। মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারের অংশগ্রহণ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হওয়ায় অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ১৭ হাজার ৭৩৯ জন, নারী ভোটার ৯ লাখ ১৪ হাজার ৮২৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৩ জন। চারটি আসনে মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিটি ভোটার দুটি ব্যালট পাচ্ছেন—একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত ‘জুলাই সনদ’ গণভোটের জন্য। একাধিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে ভোটারদের মধ্যে সন্তুষ্টি লক্ষ্য করা গেছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, জেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকাসহ সব কেন্দ্রে স্বাভাবিকভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। জেলার ৬০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭৯টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে সীমান্ত এলাকাসহ সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে টহল দিচ্ছে। জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার জানান, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মোবাইল টিম ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের টেকনাফে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগুনে কার্যালয়ের আসবাবপত্র, দলীয় নথি ও ব্যানার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জামায়াতের স্থানীয় নেতারা এই ঘটনার পেছনে প্রতিপক্ষের পরিকল্পিত রাজনীতিক উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ করেছেন। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসী রাজনৈতিক সহিংসতা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন।