সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বিএনপি'র ধানের শীষ সমর্থকদের হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলমের অন্তত ৮ জন কর্মী-সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৬০ বছরের আব্দুস সাত্তার, ৫০ বছরের আনোয়ারুল ইসলাম আকুল ও ৪০ বছরের মীর শাহিনুর রহমানসহ নারী-পুরুষ রয়েছে। তারা সবাই কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
ঘটনা ঘটে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফতেপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা মোজাম মোড় এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, আহতরা বিএনপি থেকে বহিস্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলমের ‘বল’ প্রতীকের সমর্থক। পুলিশের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং আহতদের পক্ষে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিএনপি'র ধানের শীষ প্রতিক সমর্থক নুরুজ্জামান পাড় ও তার নেতৃত্বাধীন ১০–১২ জন অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়ে সমর্থকদের গুরুতর আহত করেছেন। হামলার কারণে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত আফরোজা খানম রিতা ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচ প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভয়ভীতি ও প্রার্থিতা বাতিলের অভিযোগ তুললেও ভোটে তাদের সম্মিলিত প্রাপ্তি মাত্র ১৩ হাজার ৮৯৪ ভোট—রিতার একক ভোটের মাত্র ৮.২৭ শতাংশ। রিতা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ সাঈদ নূরের ৬৪ হাজার ২৪২ ভোটের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ভোটে এগিয়ে যান। বিদ্রোহী প্রার্থী আতাউর রহমান আতা ২০ হাজার ৫৫১ ভোট পেয়েছেন। এ বিজয় রিতা বাংলাদেশের তৃতীয় নারী হিসেবে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের ফলাফল প্রমাণ করে—অভিযোগের চেয়ে ভোটারদের আস্থা শেষ কথা।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কারাবন্দি নেতা শামিকুল ইসলাম সরকার লিপন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসারে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে খুলনা–ঢাকা মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ফকিরহাট বিশ্বরোড মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিএম লাইন পরিবহনের একটি বাস খুলনার দিকে যাচ্ছিল। একই সময় খুলনা থেকে মাদারীপুরগামী রূপসী পরিবহনের বাসটি ফকিরহাট এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপর বাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর ফকিরহাট ইউনিট আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আহতদের মধ্যে ৬ জন নারী ও ৯ জন পুরুষ। তাদের বেশিরভাগই রূপসী বাসের যাত্রী বলে জানানো হয়েছে। মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার জানান, দুর্ঘটনায় দুই বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রূপসী বাসের ব্রেক বিকল হয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে।