জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়ন যমুনা নদীর ক্রমাগত ভাঙনের কবলে পড়েছে। গত ৩০ বছরে ইউনিয়নের ১০ কিলোমিটারের বেশি ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ৩৪.৫০ বর্গ কিলোমিটারের ইউনিয়নের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ জমি এখন নদীজলে তলিয়ে গেছে। স্থানীয়রা দুঃখ প্রকাশ করছেন, স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা না থাকায় পুরো ইউনিয়নটি ভবিষ্যতে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
উপজেলার চলাচলের একমাত্র পাকা সড়ক, ফসলি জমি, ভিটেমাটি, দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়, খোলাবাড়ি চর মাগুরিহাট কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ২০০ মিটার ব্রিজ নদীর ধারাভাঙনের শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি সংস্কার হওয়া হরিণধরা বাঁধের প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশও হুমকিতে রয়েছে।
চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল ইসলাম আক্কাস বলেন, সড়কের এক হাজার ফুট অংশ ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের যোগাযোগের সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং পাশ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার সাথে নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, এক সময় বর্ষার মৌসুমেই নদী ভাঙত, এখন সারা বছরই ভাঙন হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হাসান ও জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা নকিবুজ্জামান খান জানিয়েছেন, নদী ভাঙন রোধে বড় প্রকল্পের প্রয়োজন। অস্থায়ীভাবে ৮০০ মিটার জিও ব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্পের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যদি স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা না করা হয়, তবে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে পুরো ইউনিয়ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এবং বহু পরিবার ঘরবাড়ি ও ফসল হারাবে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে অভিযোগকে কেন্দ্র করে সেনাসদস্য ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর এক সেনাসদস্য ও তার ভাইকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকেরা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে। মৃত রোগীর স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুললে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আহত হন সেনাবাহিনীর ল্যান্স কর্পোরাল সোহেল আলী (২৯) এবং তার ভাই জয় আলী। পরিবার অভিযোগ করেছে, মায়ের মৃত্যুর কারণ জানতে গিয়ে ভিডিও ধারণের সময় তাদের মারধর করা হয় এবং একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের হেফাজতে নেয়। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রোগীর স্বজনরা চিকিৎসা কার্যক্রমে বাধা দেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন এবং সরকারি কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেন। মামলার ভিত্তিতে জয় আলীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং সেনাসদস্য সোহেল আলীকে সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে তদন্ত চলছে। এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংগঠন দাবি করেছে, তারা ধারাবাহিকভাবে ‘মব হামলা’র শিকার হচ্ছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে এবং হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে, যা চিকিৎসা পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। তারা দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে সেনাসদস্যের পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, চিকিৎসা অবহেলার বিষয়ে প্রশ্ন তুললেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা তিনদিন পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সোমবার রাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত এ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। একই সময়ে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপারও বন্ধ থাকবে। বন্দর ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ ও ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ কেফায়েতুল ওয়ারেস বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এছাড়া শুক্রবার (সরকারি ছুটির দিন) বন্দর কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগামী শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হবে। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হলেও ওই দিন ভারত, নেপাল ও ভুটানগামী পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
পঞ্চগড়ে হামের টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার কোনো ধরনের “ব্লেম গেমে” যেতে চায় না; বরং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করাই মূল লক্ষ্য। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার শিংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ক্যাম্পেইন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের প্রায় ১৮টি জেলায় ও ৩০টি উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার এমআর ভ্যাকসিন ও ভিটামিন-এ কর্মসূচি আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে। গুজবে কান না দিয়ে অভিভাবকদের সন্তানদের টিকা দিতে তিনি আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে এবং দেরি না করার পরামর্শ দেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, পঞ্চগড়ে এবারের ক্যাম্পেইনে ১ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।