পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবদের সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে পৌঁছাতে হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী পৌনে নয়টার মধ্যেই কার্যালয়ে উপস্থিত হন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আগে যে যার ইচ্ছেমতো অফিস করতেন, এখন আর সেই সুযোগ নেই। পর্যায়ক্রমে এই নিয়ম দেশের সব সরকারি দপ্তরে কার্যকর হয়েছে। আমাদের সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে পৌঁছাতে হয় এবং বিকেল ৪টা পর্যন্ত দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এরপর মন্ত্রণালয়ের সভা থাকে।”
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবো। এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।” তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সুশাসন নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। জেলার পাঁচ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি বলেছেন, পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশকে বাসযোগ্য রাখতে নদী-খাল-বিল, বনজঙ্গল ও জলাশয় রক্ষা জরুরি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় উপজেলার মিঠাখালি ইউনিয়নের সাহেবেরমেঠ গ্রামের মাদুরপাল্টা বাজার ব্রিজ সংলগ্ন খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবিলায় খাল খনন সময়ের দাবি। নদী ও খাল দখল-দূষণের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় খাল পুনঃখনন বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার নূর আলম শেখসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ও বেলুন উড়িয়ে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
ইলিশের প্রজনন ও জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী মার্চ ও এপ্রিল মাসে চাঁদপুর জেলার পদ্মা-মেঘনা নদীর নির্ধারিত এলাকায় সব ধরনের মাছ আহরণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট আদেশ অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মজুদ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকা ‘অভয়াশ্রম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে এ দুই মাস কোনো প্রকার মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
পঞ্চগড়ে বন্ধ হয়ে থাকা ‘উত্তরা গ্রীণ টি’ নামে একটি চা কারখানা পুনরায় চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষুদ্র চা চাষী ও শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ চা বোর্ড-এর পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সদর উপজেলার কেচারাপাড়া এলাকায় অবস্থিত কারখানাটি ২০২০ সালের শুরুতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে এবং দীর্ঘদিন ধরে চাষীদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে কাঁচা চা পাতা ক্রয় করছিল। তবে নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২০২৫ সালের নভেম্বরের দিকে কারখানাটির মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় চা বোর্ড। এতে সহস্রাধিক চা চাষী আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। চাষীদের দাবি, সমতলের চা জাতীয় উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কারখানাটি বন্ধ থাকলে চলতি মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং চাষীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। পাশাপাশি কারখানা বন্ধ থাকলে মধ্যস্বত্বভোগী চক্র সক্রিয় হয়ে দামে ও ওজনে কাটতির মতো অনিয়ম বাড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বক্তারা আরও বলেন, কারখানার কাগজপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হোক। আগামী ১ মার্চ থেকে নতুন মৌসুমে যাতে কারখানাটি চা পাতা ক্রয় শুরু করতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। পরে চাষীরা চা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপি গ্রহণ করে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ফার্ম সুপারভাইজার মেহেদী হাসান। বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে জটিলতা থাকায় কারখানাটির মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে জরিমানা আরোপ সাপেক্ষে কারখানাটি চালুর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।