রাষ্ট্রীয় নীতি ও গণতান্ত্রিক অঙ্গীকারের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের জনগণ দীর্ঘ সময়ের ত্যাগ ও সংগ্রামের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে; এখন তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত সবার সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা পুনরারম্ভ হয়েছে। এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের আত্মত্যাগ, জীবনহানি ও নিপীড়নের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের শাসন, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের সুরক্ষায় একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, “আমরা মহান আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করতে চাই—রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি পদক্ষেপ হবে জনগণের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক ভিন্নমত সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান একই টেবিলে অংশ নেন। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট নাগরিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জ-এর আদালত এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং বিভিন্ন মামলায় হাজির না হওয়াসহ একাধিক অভিযোগে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর আগে জেলা প্রশাসকের বদলি নিয়ে প্রকাশ্যে ‘২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা লেনদেন’ সংক্রান্ত মন্তব্য করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং তা রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে বিবেচিত হয়। এছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানসংক্রান্ত একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় অভিযোগ আনা হয়, তিনি ধর্মীয় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে একটি সরকারি অবস্থান ও মন্ত্রীর মন্তব্যকে ‘বিতর্কিতভাবে ব্যাখ্যা’ করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন। একই ইস্যুতে সিরাজগঞ্জ আদালতে আরেকটি বড় অঙ্কের মানহানির মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। আদালত ওই মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এর ওপর ন্যস্ত করেছে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, একাধিক মামলায় ধারাবাহিক অভিযোগ ও আদালতে অনুপস্থিতির কারণে বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বিষয়টি এখন আইনগত কার্যক্রমের অধীনে রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে এ বিষয়ে আরও অগ্রগতি হতে পারে। নোটিশে আরও বলা হয়, নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ডিসি বদলি হয়ে আসার জন্য কোন ব্যক্তিও প্রতিষ্ঠানের কাছে ২০ থেকে ৩০ কোটি দিয়েছেন, ওই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম অনতিবিলম্বে জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা ও বাড়তি চাহিদা নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ বৃদ্ধি করেছে সরকার, কার্যকর হয়েছে নতুন বরাদ্দ নীতি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ এবং ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ১০ শতাংশ করে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি চাহিদা তৈরি হওয়ায় বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে পাম্পভিত্তিক নতুন বরাদ্দ কাঠামো চালু করে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সরবরাহ ব্যবস্থাকে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের বড় অংশ ডিজেলনির্ভর হওয়ায় এ খাতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যমান মজুত ও আসন্ন আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত চাহিদা ও বাজারে আতঙ্কজনিত কেনাকাটার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা পর্যায়ের টিকাদান ব্যবস্থায় অতীত সরকারের ব্যর্থতাকে “ক্ষমাহীন অপরাধ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সময়মতো হামের টিকা না দেওয়ার কারণে দেশে ব্যাপক সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেন। তিনি স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে “প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর” নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা জোরদার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন এবং এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার বড় অংশই নারী হবে। এছাড়া ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় স্বাস্থ্য কাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের মতো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।