মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আকাশপথে জরুরি বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজ কাতারের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণার পর সব ধরনের ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত করেছে। একইসঙ্গে টার্কিশ এয়ারলাইনস কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইরান ও জর্ডানগামী ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানে সামরিক হামলার ঘটনা ঘটে, যা দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। রাজধানীসহ কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানানো হয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের দিকেও হামলা চালানোর দাবি উঠেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো তাদের আকাশসীমা ব্যবহারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবদের সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে পৌঁছাতে হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী পৌনে নয়টার মধ্যেই কার্যালয়ে উপস্থিত হন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “আগে যে যার ইচ্ছেমতো অফিস করতেন, এখন আর সেই সুযোগ নেই। পর্যায়ক্রমে এই নিয়ম দেশের সব সরকারি দপ্তরে কার্যকর হয়েছে। আমাদের সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে পৌঁছাতে হয় এবং বিকেল ৪টা পর্যন্ত দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এরপর মন্ত্রণালয়ের সভা থাকে।” দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবো। এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।” তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সুশাসন নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। জেলার পাঁচ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরা শহর সহ জেলার বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার দুপুরে ভূমিকম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পনের উৎপত্তিস্থল জেলার আশাশুনি উপজেলায়। রিকটার স্কেলে যার মাত্রা ৫.৪ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে ভূমিকম্পনের মাঝারি মাত্রা থাকায় ঝাকুনিও ছিল প্রচণ্ড। কয়েক সেকেন্ডের এ ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে জেলার মানুষ। সাতক্ষীরার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যাবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিক্কার আলী জানান, শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ২৯ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিকটার স্কেলে যার মাত্রা ৫.৪। আর এর উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে। যেটি খুলনার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ও সাতক্ষীরার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। সাতক্ষীরার কাটিয়া এলাকার গৃহবধূ রোকসানা আক্তার জানান, তিনি তখন ঘরের মধ্যে টুকটাক কাজ করছিলেন। হঠাৎ তার মনে হচ্ছিল, তিনি ডানদিকে একবার তারপর বাম দিকে ঢলে পড়ছেন। আতঙ্কিত হয়ে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। আশপাশের কিশোর-কিশোরীসহ সর্বস্তরের মানুষের চিৎকার শুনেছেন তিনি। জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রব পলাশ জানান, শুক্রবার ওভারব্রীজ জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়ার শেষ মুহূর্তে হঠাৎ কেঁপে ওঠে মসজিদের জানালা। তীব্র ঝাঁকুনিতে মুসল্লিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অনেকে মসজিদেও বাইরে বেরিয়ে যায়। তিনি নিজেও টলে পড়ে যাচ্ছিলেন। শহরের কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা জাহারুল ইসলাম টুটুল জানান, তিনি মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়ছিলেন। দোতলা মসজিদটি দোল খাওয়া শুরু করলে তারা মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা শ্মশান ঘাটের প্রাচীর, তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের কয়েকটি কাঁচা ঘরবাড়ি, অর্ধ-শতাধিক বাড়ির দেয়ালে ফাটলসহ ছোট-ছোট ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওয়ারহাউজ ইনস্পেক্টর মো: নুরুল ইসলাম বলেন, এখনও পর্য়ন্ত জেলায় কোনো ফায়ার স্টেশনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ আসেনি। তবে কিছু স্থানে ভবনের ফাটলের খবর পেয়েছি। সেগুলি আমরা পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করব। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আক্তার জানান, ভূমিকম্পের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তিনি পাননি। তবে মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় চারটি ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮ জন প্রার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। জাতীয় সংগীত শুদ্ধভাবে লিখতে না পারায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়নের পাঁচটি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ৩৮ জন আবেদন করেন। প্রথমে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। পরে মেধা পরীক্ষার অংশ হিসেবে ১৫ মিনিট সময় দিয়ে জাতীয় সংগীত লিখতে বলা হয়। তবে কোনো প্রার্থীই সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে সক্ষম হননি। ফলে কাউকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়নি। ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সাধারণ জ্ঞান থাকা আবশ্যক। অন্যদিকে, মেধার ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়ায় নিয়োগ কমিটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অনেকে। নিয়োগ বাছাই কমিটিতে উপস্থিত ছিলেন তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম. আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, “মেধা যাচাইয়ের সময় দেখা গেছে, কোনো প্রার্থী জাতীয় সংগীত সঠিকভাবে লিখতে পারেননি। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান ও দেশপ্রেমের মৌলিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।” উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরবর্তীতে পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।