দেশে হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যাদের মধ্যে ১ জনের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত এবং বাকি ৮ জন উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়, একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১০৫ জনের মধ্যে সন্দেহজনক হাম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং ১৭৬ জনের ক্ষেত্রে রোগটি নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, যেখানে উপসর্গজনিত মৃত্যু ও সংক্রমণ উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ৩১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর সন্দেহজনক সংক্রমণে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে। একই সময়ে দেশে মোট ১৮ হাজার ১২৯ জনের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে।
এছাড়া এ সময়ের মধ্যে সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১ হাজার ৬৫২ জন, যাদের মধ্যে ৯ হাজার ৩০৪ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যাবশ্যক।
পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বিকাশে নীলফামারীর সৈয়দপুর-এ কুইজ, কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। অরাজনৈতিক সংগঠন সততসঞ্চারী-এর উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে রহমতউল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের তথ্যমতে, ১৩ এপ্রিল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পৃথক তিনটি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরদিন নববর্ষ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ঐতিহ্যবাহী পান্তা ভাত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দ্যা লাইসিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান উপদেষ্টা মোঃ আশরাফুল ইসলাম সবুজ এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম। প্রধান অতিথি বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হলে তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
নীলফামারীতে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপনে মেতে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষ। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই বাঙালিয়ানা আর ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে পুরো জেলা। বর্ণিল প্রস্তুতি ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নিতে কেউ তৈরি করেছেন বাঁশ-বেত দিয়ে জাতীয় পাখি দোয়েল, কেউ বানিয়েছেন জাতীয় মাছ ইলিশের প্রতিকৃতি। পাশাপাশি গ্রামীণ ঐতিহ্য তুলে ধরতে তৈরি হয়েছে লাঙ্গল-জোয়াল, কৃষকের ঝাঁপি, ঘুড়ি, ঢোল-তবলা, গরুর গাড়ি ও ঘোড়ার গাড়ি। সকালজুড়ে শোভাযাত্রা ও উৎসব মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে নীলফামারী যেন সেজেছিল এক বর্ণিল সাজে। ঢাক-ঢোল, নাচ-গান আর রঙের উচ্ছ্বাসে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় মানুষ। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান-এর নেতৃত্বে ডিসি চত্বর থেকে সকাল ৯টায় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ডিসি’স গার্ডেনে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। এসময় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাইদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র এবং পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম। মেলা, সংস্কৃতি ও মিলনমেলা নীলফামারী প্রেসক্লাব চত্বরে দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। এতে ছিল পান্তা ভাতের আসর, শিশুদের কবিতা আবৃত্তি, ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা এবং বিকেলে পুরস্কার বিতরণ। অন্যদিকে সৈয়দপুরেও উপজেলা প্রশাসন ও শিল্প সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। সম্প্রীতির বার্তা জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলা নববর্ষ একটি সর্বজনীন উৎসব—ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই উৎসবে একসঙ্গে অংশ নেয়। পাজামা-পাঞ্জাবি ও শাড়িতে সজ্জিত মানুষ, শিশুদের রঙিন পোশাক, আর সর্বত্র উৎসবের আমেজ—সব মিলিয়ে নীলফামারীতে পহেলা বৈশাখ পরিণত হয়েছে আনন্দ, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির এক মহামিলনে।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ-এ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে বসুরহাট পৌরসভার বাইপাস সড়ক সংলগ্ন এলাকায় আলোচনা সভার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে নববর্ষের ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির সর্বজনীন উৎসব, যা ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যের বার্তা দেয়। আলোচনা শেষে ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। পরে বর্ণাঢ্য ‘আনন্দ নবযাত্রা’ বের হয়, যা পৌরসভা গেট থেকে শুরু হয়ে উপজেলা প্রশাসন কার্যালয় এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রেসক্লাবের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পুরো কর্মসূচি জুড়ে এলাকায় বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নববর্ষের আমেজ।