নীলফামারীর জলঢাকায় সিংগীমারী শ্মশান কালী মন্দিরের কাছে প্রভাত চন্দ্র রায় (৫০) নামে এক কৃষকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের দোলাপাড়া এলাকার ওই মন্দির সংলগ্ন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত প্রভাত চন্দ্র রায় স্থানীয় নীলকান্ত চন্দ্র রায়ের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে কলাপাতা কাটতে বাড়ি থেকে বের হন প্রভাত চন্দ্র রায়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা মন্দিরের পাশে তার গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নামজুম আলম জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
রাজশাহী মহানগরীতে চোরাই মোটরসাইকেলসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) এর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. বাধন হোসেন সৌরভ (২১) ও মো. পলাশ (২৪)। পুলিশ জানায়, ৬ মে দিবাগত রাতে পৃথক অভিযানে রাজপাড়া থানার লক্ষীপুর কাঁচাবাজার এলাকা থেকে সৌরভকে এবং কাশিয়াডাঙ্গা থানার বালিয়া এলাকা থেকে পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। সৌরভের ভাড়া বাসা থেকে একটি লাল রঙের চোরাই Bajaj Discover 125 মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী ও আশপাশের এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি করে বিক্রি করে আসছিল। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধেই বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সুন্দরবনে জলদস্যুদের তাণ্ডবে জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত দুই দিনে দস্যুদের হামলায় অন্তত ২৫ জন বনজীবী অপহৃত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (৪মে) সকাল থেকে মঙ্গলবার (৫ মে) বিকাল পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খাল—চুনকুড়ি নদীর গোয়ালবুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালী খাল, মামুন্দো নদীর মাইটভাঙা খাল ও মালঞ্চ নদীর চালতেবাড়ি খাল এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলিম ও ডন বাহিনীর পরিচয়ে সশস্ত্র দস্যুরা মাছ, কাঁকড়া ধরা ও মধু সংগ্রহে থাকা নৌকাগুলোতে হামলা চালিয়ে প্রতিটি নৌকা থেকে একজন করে বনজীবীকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এ পর্যন্ত ১৬ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন শ্যামনগরের হুমায়ুন, আব্দুল সালাম, আবুল কালাম, শাহাজান গাজী, সিরাজ গাজী, আবুল বাসার বাবু, আল-আমিন, আল-মামুন, মনিরুল মোল্লা, সঞ্জয় মণ্ডল, হৃদয় মণ্ডল, রবিউল ইসলাম বাবু, রবিউল ইসলাম, শুকুর আলী গাজী, ইব্রাহিম গাজী ও মুরশিদ আলম। নিরাপত্তাজনিত কারণে অন্যদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। অপহরণের পর দস্যুরা কয়েকজনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেছে। এর মধ্যে ইব্রাহিম গাজীর জন্য ৩০ হাজার, মুরশিদের জন্য ১ লাখ এবং আব্দুল সালামের জন্য ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, একই বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। কার্যকর প্রতিরোধ না থাকায় দস্যুরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল হক জানান, কয়েকজন বনজীবী অপহরণের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জিম্মিদের নিরাপত্তার কারণে বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ খালেদুর রহমান বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পরিবারগুলো নিজেরাই সমঝোতার চেষ্টা করে এবং নিরাপত্তার কারণে তথ্য দিতে অনীহা দেখায়। তবুও ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বনজীবীদের দাবি, সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদার না হলে জীবিকার জন্য বনে যাওয়া তাদের জন্য দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক স্কুলছাত্রকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে যৌন নিপীড়ন ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে সুনামগঞ্জে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আকাশ চন্দ্র দাস শাওন ওরফে ইশান (২২)। তিনি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা-এর গৌরারং ইউনিয়নের বাসিন্দা। রোববার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর সঙ্গে টিকটকের মাধ্যমে আকাশের পরিচয় গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সম্পর্কের আড়ালে তাকে শহরের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয় এবং ঘটনাটির ভিডিও মোবাইলে ধারণ করা হয়। এরপর ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অভিযুক্ত আবারও তাকে অন্য একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে এবং পরে তাকে সেখানে ফেলে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে পুলিশ। পরবর্তীতে র্যাবের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ভিডিও সংরক্ষিত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং জব্দকৃত আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।