ইরানের রাজধানী তেহরানেই শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অপারেশনে আঘাত হানার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিস।
নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, খামেনি ইতোমধ্যেই নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন এবং তার বর্তমান অবস্থান গোপন রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং আশপাশের এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে। এই হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সীমান্ত এলাকায় ইতোমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনার ব্যর্থতার পর উভয় পক্ষই সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। ইতোমধ্যেই সংঘাত বৃদ্ধির শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তীব্র নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় চীন-কে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। বেইজিংয়ে শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ল্যাভরভ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া চীনের জ্বালানি ও সম্পদের ঘাটতি পূরণে সক্ষম এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতার জন্য মস্কো প্রস্তুত। বিশেষ করে ইরান-নির্ভর জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চীনের শিল্প ও অর্থনীতিতে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা লাঘবে এই প্রস্তাবকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাশিয়া-চীন কৌশলগত সম্পর্ক বর্তমান বৈশ্বিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অটুট রয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে একটি স্থিতিশীল জোট হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে চীনের জ্বালানি সরবরাহে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার বিকল্প সরবরাহ প্রস্তাব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
ভারতের উত্তরপ্রদেশ-এর নয়ডা-এ বেতন বৃদ্ধি ও উন্নত কর্মপরিবেশের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনে শহরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি শ্রমিকের অংশগ্রহণে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তী দিনগুলোতেও অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে। বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস রাজ্য সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছে। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও পূর্বজ্ঞান থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী শ্রমিকদের আর্থিক দুর্দশাকে আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতের আহ্বান জানান। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অস্থিরতাকে “পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং এতে বিদেশি যোগসূত্র থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন দাবি করেছে, কিছু সংগঠিত গোষ্ঠী পরিস্থিতিকে সহিংসতায় রূপ দিয়েছে এবং সরকারি সম্পত্তিতে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এদিকে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই উত্তরপ্রদেশ সরকার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি গড়ে ২১ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে, যদিও আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল ২০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই শ্রমিক আন্দোলন এখন কেবল অর্থনৈতিক ইস্যু নয়, বরং উত্তরপ্রদেশ রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নৌ-অবরোধের হুমকিকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এ পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) তেহরানে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি সামরিক তৎপরতা ইরানের নৌবাহিনীর নিবিড় নজরদারিতে রয়েছে। তিনি ট্রাম্পের হুমকিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পরাজয় ঢাকার ব্যর্থ প্রচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, অতীতের সংঘাতে ব্যর্থতার পর এ ধরনের ঘোষণা কেবল দুর্বলতাই প্রকাশ করে। ইরানি নৌপ্রধান দাবি করেন, তাদের বাহিনী আঞ্চলিক জলসীমায় যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি শক্তির চাপ বা অবরোধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও ব্যর্থ আলোচনার পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে।