চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের দুই প্রধান সার কারখানা—চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি—গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। সরকারি নির্দেশনার আলোকে বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, চলমান গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পখাতে সরবরাহ সীমিত হওয়ায় কারখানাগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সিইউএফএল স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ১,১০০–১,২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করে, আর কাফকোর উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ১,৭২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া ও ১,৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। বর্তমানে এই বিপুল পরিমাণ উৎপাদন স্থগিত রয়েছে।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, কম চাপের গ্যাসে উৎপাদন চালালে যন্ত্রপাতির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিরাপত্তার কারণে এবং সরকারি নির্দেশনায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দ্রুত উৎপাদন পুনরায় চালু করা হবে।
ঢাকার মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা নিজেদের আমানতসহ মুনাফা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনকারীরা ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক নিয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর আমানতকারীরা। অবস্থানকালে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান ব্যবহার করে তাদের সরায়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য মাত্র ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত—যাকে ‘হেয়ার কাট’ বলা হচ্ছে—তাদের মূলধন ও অধিকার হরণ করছে। বক্তারা দাবি করেন, অনেক গ্রাহক তাদের জমা অর্থ ও মুনাফা তুলতে না পারায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। গ্রাহকরা অবিলম্বে বিতর্কিত এই সিদ্ধান্ত বাতিল, সম্পূর্ণ টাকা ফেরত এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি না মানা হলে আগামী ১২ মার্চ আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি ৭১ লাখ ৫১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফারইস্ট টাওয়ার-২-এর সিভিল ও ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কাজের নামে ভুয়া কার্যাদেশ ও জাল বিল ভাউচার তৈরি করে অর্থ হরণ করা হয়েছে। দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বুধবার (০৪ মার্চ) জানান, মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক এমডি ও সিইও মো. হেমায়েত উল্যাহ, সাবেক ডিএমডি সৈয়দ আব্দুল আজিজ, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আমীর মোহাম্মদ ইব্রাহীম, সাবেক সিইভিপি শেখ আব্দুর রাজ্জাক ও সাবেক হেড অব ইন্টারনাল অডিট মো. কামাল হোসেন হাওলাদারকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে সংশ্লিষ্ট কাজের অগ্রিম অর্থ প্রদানের জন্য ভুয়া কার্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, যা কমিটির বৈধ অনুমোদনের বাইরে ছিল। পরে জাল বিল ও আবেদনপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়। কিছু অর্থ ফারইস্ট ইসলামী প্রোপার্টিজের নামে পূর্বে জালিয়াতির মাধ্যমে গৃহীত ঋণ সমন্বয়ে ব্যবহৃত হয় এবং বাকি নগদে আত্মসাত করা হয়। দুদক জানায়, তদন্তে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট ভাউচারে কোনো অনুমোদনকারী বা নিরীক্ষা সংক্রান্ত স্বাক্ষর ছিল না এবং ব্যয়ের পক্ষে কোনো বৈধ নথি নেই। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংঘটিত এই অনিয়মে সাবেক কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন করেছেন। তদন্তে যদি অন্যদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নতুন নিয়মাবলি জারি করেছে, যেখানে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সকলকে বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ত্বরান্বিত করার জন্য এই সময়সীমা সর্বজনীনভাবে কার্যকর হবে। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে আসার পথে দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত কাজের (যেমন সেমিনার, প্রশিক্ষণ, ব্যাংক বা হাসপাতাল সফর) কারণে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে পারেন না। তবে এই বিষয়টি জনসেবায় বিঘ্ন না ঘটানোর জন্য এখন থেকে অফিসে নির্ধারিত সময় উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। নিয়মটি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহে কার্যকর হবে। ব্যতিক্রম স্বরূপ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও অনুষদ সদস্য, রোস্টার ডিউটি করা হাসপাতাল ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মী, জরুরি গ্রাহকসেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা এবং মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না। পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, ভিআইপি প্রটোকল, জরুরি দুর্ঘটনা মোকাবিলা, উন্নয়ন সহযোগী বা কূটনৈতিক মিশনের গুরুত্বপূর্ণ সভা, অনুমোদিত সরকারি সফর ছাড়া অফিস ত্যাগ করা যাবে না। দাপ্তরিক কাজে ব্যতীত অফিস ত্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই পদক্ষেপ সরকারি কাজের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে এবং অফিসে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গ্রহণ করা হয়েছে।