স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন হঠাৎ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন, যেখানে নোংরা বিছানা, তেলাপোকা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় ধরনের অব্যবস্থাপনা ধরা পড়েছে।রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর এই হাসপাতালে পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, যারা সরকারের কাছে দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারা কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করছেন না।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, দেশের সর্বোচ্চ মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনার অভাব লক্ষ্য করা গেছে। তবে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করার জন্য সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালকে অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় আরও মানবিক ও গুণগত মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারীর শিক্ষা ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘অদম্য নারী’ মরণোত্তর পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে দেশের আট বিভাগের ৩৯ নারী থেকে ৫ জনকে বিশেষভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। খুলনা, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের নারীরা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই পুরস্কারের আয়োজন নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতি উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের সংগ্রাম, নেতৃত্ব ও অবদানের গল্প জনসমক্ষে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নারীদের সমান অধিকার ও ক্ষমতায়নের প্রতি জোর দিয়েছেন আন্তর্জাতিক নারী দিবসে শুক্রবার (৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দেশের সকল নারীর প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাণীতে তিনি উল্লেখ করেছেন, নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং তাদের ক্ষমতায়নে পূর্ববর্তী নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে সমাদর করা হবে। বর্তমান সরকারও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কার্যক্রম চালাচ্ছে, যার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি অন্যতম। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, নারীর নিরাপত্তা সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে এবং সাইবার বুলিং ও অনলাইনে হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি দেশটিকে এমন একটি সমাজ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যেখানে নারী-পুরুষ সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে কাজ করতে পারবে।
আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই সরকারের নীতি ও কার্যক্রম নিয়ে সংসদে সরব হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নির্বাচনী অনিয়ম, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটসহ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় তারা। বিরোধী দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজপথের আন্দোলনের পরিবর্তে সংসদীয় কার্যক্রমের মাধ্যমেই সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে। এ লক্ষ্যে দলের সংসদ সদস্যদের জন্য ইতোমধ্যে ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সংসদীয় বিধি-বিধান, বিল ও বাজেট প্রক্রিয়া এবং বিরোধী দলের কৌশলগত ভূমিকা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের যে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগে তারা সমর্থন জানাবেন। তবে জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত বা নীতিগত অসংগতি দেখা দিলে সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে বিরোধী দলের সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করা হবে। অন্যদিকে সরকারি দলও সংসদে সম্ভাব্য সমালোচনা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে। সংসদ সদস্যদের তথ্যভিত্তিক বক্তব্য উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সংসদীয় রীতি অনুসরণ করে সব প্রশ্নের জবাব দিতে মন্ত্রিসভা ও সংসদ নেতৃত্ব প্রস্তুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। সেদিন বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণসহ সংসদীয় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংসদের সূচনা থেকেই সরকার ও বিরোধী দলের সক্রিয় অবস্থানের কারণে অধিবেশনটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রাণবন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।