কিশোরগঞ্জে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, গণভোটের পক্ষে সরকার সচেতন প্রচারণা চালাচ্ছে; যারা প্রশ্ন তুলছে, তারা মূলত পলাতক শক্তি।
উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, জুলাই-আগস্টে আত্মহুতি দেওয়া যাদের সহযোদ্ধা ছিল, তাদের উদ্যোগে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট আয়োজন করা হয়েছে। যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তারা এখন গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ জুলাই কাফেলার সঙ্গে আছেন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে তা প্রমাণ করবেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সরকার। ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের সমর্থন প্রকাশ করবেন, এরপর স্থানীয় পর্যায় থেকে নির্বাচিত প্রার্থীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন।
উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জুলাইযোদ্ধারা।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপদেষ্টা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি ও উপকারভোগী নারীদের সঙ্গে গণভোট সচেতনতা বিষয়ে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এছাড়া তিনি বাজিতপুর, কুলিয়ারচর ও ভৈরব উপজেলার একাধিক গণভোট সম্পর্কিত কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেন।
চট্টগ্রামের টেরিবাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান স্থানীয় তৈরি পাঞ্জাবিকে ভারতীয় বলে বিক্রি করা হচ্ছে এমন জালিয়াতি উন্মোচন করেছে। অভিযানে ‘রাজস্থান’ নামের প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ‘খাজানা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে পুরোনো স্টিকার ব্যবহার করে দাম বৃদ্ধি করার অভিযোগে ১৫ হাজার টাকা, আর ‘কুদু’ নামে একটি দোকানকে মেয়াদোত্তীর্ণ ইফতার সামগ্রী ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরির কারণে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উপপরিচালক ফয়েজ উল্লাহ জানান, রাজস্থানের পাঞ্জাবিতে একই পণ্যে বাংলাদেশি ও ভারতীয় দুই ধরনের স্টিকার ব্যবহার করা হচ্ছিল। যাচাই করার পর ধরা পড়ে যে, স্থানীয় তৈরি পণ্যকে ভারতীয় বলে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী ভোক্তা প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ধরনের ঘটনা দুইবার ঘটলে আরও বেশি জরিমানা আর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঢাকা কলেজের এইচএসসি ১৯৯৬ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর একটি অভিজাত রেস্তোরাঁতে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে মিলিত হন। অনুষ্ঠানটি বন্ধুত্ব, স্মৃতিচারণ ও সম্প্রীতির আবহে মুখরিত হয়ে ওঠে। সভাপতিত্ব করেন ব্যাচের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ আশরাফুল হাসান মানিক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত প্রায় দেড় শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী। বক্তারা তাদের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। বুয়েট অধ্যাপক তানভীর আহমেদ বলেন, “ঢাকা কলেজ আমাদের জীবনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। আজ আমরা যেখানে থাকি না কেন, এই ব্যাচের বন্ধন আমাদের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।” এলামনাই সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী ওয়াহিদ আলম তুলিত বলেন, “বন্ধুদের সঙ্গে এই আড্ডা মানসিক প্রশান্তি দেয়। আমরা চাই আমাদের সংগঠন শুধু ইফতার বা মিলনেই সীমাবদ্ধ না থেকে আর্তমানবতার সেবায়ও অবদান রাখুক।” অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কানাডা প্রবাসী সাংবাদিক দীন ইসলাম, ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব তোফাজ্জল হোসেন, বিকেএসপির পরিচালক কর্ণেল গোলাম মাবুদ, পুলিশ ও এলজিইডির কর্মকর্তাসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ইফতার ও সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষ হয় নৈশভোজের মাধ্যমে। উপস্থিত সাবেক শিক্ষার্থীরা আয়োজক কমিটির প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পুনর্মিলনী আয়োজনের আশা প্রকাশ করেন।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শনিবার (৭ মার্চ) আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি সময়মত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সকাল সাড়ে ৮টায় হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় দেখা গেছে, হাসপাতালের ২১ জন ডাক্তারের মধ্যে ৫ জন ছুটিতে থাকায় ১৬ জন কর্তব্যরত ছিলেন। এদের মধ্যে মাত্র ৮ জন ডাক্তার নির্ধারিত সময়মতো উপস্থিত ছিলেন, আর ২ জন ডাক্তার পরে আসেন। মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “আমরা খবর পেয়েছিলাম যে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তাররা সময়মতো আসেন না। আজকের পরিদর্শনে তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। যারা অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মন্ত্রী পরিদর্শনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং রোগীদের সুষ্ঠু সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বারোপ করেছেন।