ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নগরীর টাউনহল এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের জন্য বিভাগীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী, এনডিসি।

সভায় প্রধান অতিথি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু এতদিন জনগণকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। গণভোটে অংশগ্রহণ করে জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন করতে পারবে। তিনি সংবিধানের উচ্চকক্ষ, রাষ্ট্রপতি নিয়োগ ও ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

বিশেষ অতিথি বাণিজ্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, গণভোটের পক্ষে প্রচারণা ও স্বাধীন, ন্যায়বিচারপরায়ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা জরুরি। অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেন, গণভোটের প্রধান লক্ষ্য রাষ্ট্রব্যবস্থার বিভিন্ন সিস্টেমের সংস্কার, সংবিধানের ফাঁক-ফোকর বন্ধ করা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা।
সভায় ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, বিভাগীয় দপ্তরের প্রধানগণ, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের টেরিবাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান স্থানীয় তৈরি পাঞ্জাবিকে ভারতীয় বলে বিক্রি করা হচ্ছে এমন জালিয়াতি উন্মোচন করেছে। অভিযানে ‘রাজস্থান’ নামের প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ‘খাজানা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে পুরোনো স্টিকার ব্যবহার করে দাম বৃদ্ধি করার অভিযোগে ১৫ হাজার টাকা, আর ‘কুদু’ নামে একটি দোকানকে মেয়াদোত্তীর্ণ ইফতার সামগ্রী ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরির কারণে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উপপরিচালক ফয়েজ উল্লাহ জানান, রাজস্থানের পাঞ্জাবিতে একই পণ্যে বাংলাদেশি ও ভারতীয় দুই ধরনের স্টিকার ব্যবহার করা হচ্ছিল। যাচাই করার পর ধরা পড়ে যে, স্থানীয় তৈরি পণ্যকে ভারতীয় বলে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী ভোক্তা প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ধরনের ঘটনা দুইবার ঘটলে আরও বেশি জরিমানা আর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঢাকা কলেজের এইচএসসি ১৯৯৬ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর একটি অভিজাত রেস্তোরাঁতে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে মিলিত হন। অনুষ্ঠানটি বন্ধুত্ব, স্মৃতিচারণ ও সম্প্রীতির আবহে মুখরিত হয়ে ওঠে। সভাপতিত্ব করেন ব্যাচের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ আশরাফুল হাসান মানিক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত প্রায় দেড় শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী। বক্তারা তাদের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। বুয়েট অধ্যাপক তানভীর আহমেদ বলেন, “ঢাকা কলেজ আমাদের জীবনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। আজ আমরা যেখানে থাকি না কেন, এই ব্যাচের বন্ধন আমাদের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।” এলামনাই সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী ওয়াহিদ আলম তুলিত বলেন, “বন্ধুদের সঙ্গে এই আড্ডা মানসিক প্রশান্তি দেয়। আমরা চাই আমাদের সংগঠন শুধু ইফতার বা মিলনেই সীমাবদ্ধ না থেকে আর্তমানবতার সেবায়ও অবদান রাখুক।” অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কানাডা প্রবাসী সাংবাদিক দীন ইসলাম, ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব তোফাজ্জল হোসেন, বিকেএসপির পরিচালক কর্ণেল গোলাম মাবুদ, পুলিশ ও এলজিইডির কর্মকর্তাসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ইফতার ও সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষ হয় নৈশভোজের মাধ্যমে। উপস্থিত সাবেক শিক্ষার্থীরা আয়োজক কমিটির প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পুনর্মিলনী আয়োজনের আশা প্রকাশ করেন।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শনিবার (৭ মার্চ) আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি সময়মত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সকাল সাড়ে ৮টায় হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় দেখা গেছে, হাসপাতালের ২১ জন ডাক্তারের মধ্যে ৫ জন ছুটিতে থাকায় ১৬ জন কর্তব্যরত ছিলেন। এদের মধ্যে মাত্র ৮ জন ডাক্তার নির্ধারিত সময়মতো উপস্থিত ছিলেন, আর ২ জন ডাক্তার পরে আসেন। মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “আমরা খবর পেয়েছিলাম যে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তাররা সময়মতো আসেন না। আজকের পরিদর্শনে তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। যারা অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মন্ত্রী পরিদর্শনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং রোগীদের সুষ্ঠু সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বারোপ করেছেন।