দোহা, ২৬ জুন ২০২৫ – আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ এশিয়ান কাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান জাতীয় দল। এই দুই দল এশিয়ার সেরা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত এবং তাদের লড়াই ফুটবল প্রেমীদের জন্য এক আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার অধিনায়ক পার্ক চুল-হো বলেন,
“আমরা ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছি এবং এখন পুরো দল প্রস্তুত সেরা পারফরম্যান্স দেখানোর জন্য। জাপানের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলতে হলে আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য লাগবে। আমরা দলগত একতা ও দ্রুতগতির খেলায় বিশ্বাস করি।”
অন্যদিকে, জাপানের কোচ ইয়ামামোতো শিগেরু বলেছেন,
“দক্ষিণ কোরিয়া একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, কিন্তু আমরা ইতোমধ্যে কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। খেলোয়াড়রা শারীরিক এবং মানসিকভাবে ফাইনালের জন্য প্রস্তুত।”\
এই ফাইনাল ম্যাচটি আগামী শনিবার কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত হবে এবং পুরো এশিয়া মহাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা সরাসরি সম্প্রচারে এটিকে দেখবেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ম্যাচটি গত দশকের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ এশিয়ান কাপ ফাইনাল হতে চলেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উভয়ই তীক্ষ্ণ আক্রমণ এবং দৃঢ় রক্ষণভাগ নিয়ে মাঠে নামবে। তাদের মধ্যে কোন দল জয়ী হবে তা অনেকটাই নির্ভর করবে তাদের কৌশল, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মানসিক স্থিতিশীলতার উপর।
ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
“এই দুই দলের মধ্যে লড়াই শুধু জয়ের জন্য নয়, বরং এশিয়ার ফুটবলের মান উন্নয়নে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করার সুযোগ।”
আগামী ম্যাচের জন্য দুই দলের প্রস্তুতি চলছে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা মোকাবেলায়। কোচরা খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির উপর জোর দিচ্ছেন যাতে তারা চাপ সামলাতে সক্ষম হয়।
ফুটবল ভক্তরা এখন প্রতিক্ষায় রয়েছেন, সেই মুহূর্তের জন্য যখন এই দুই শক্তিধর দল মাঠে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলবে এবং নতুন ইতিহাস গড়বে।
দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানরত জাতীয় দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান–এর দেশে প্রত্যাবর্তন ও জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আবারও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার দলে ফেরা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও প্রত্যাশা তৈরি হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাকিবের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছিলেন, যা আলোচনাকে আরও জোরদার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশে ফিরতে পারেন এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে অংশ নিতে পারেন। তবে সাকিব নিজেই এ তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করেছেন। এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক পরিচালক জানিয়েছেন, তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাকিব জাতীয় দলে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং বোর্ড পরিচালকদের সম্মতিক্রমে তাকে দলে ফেরানোর বিষয়ে নীতিগত সমর্থন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে চলমান মামলা ও অন্যান্য আইনি বিষয় প্রসঙ্গে বিসিবি সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সরকারের কাছে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করবে। সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, অচিরেই বিষয়টি প্রশাসনিক পর্যায়ে নিষ্পত্তির পথে অগ্রসর হবে।
বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বরং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশকে আরও একটি বৈশ্বিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আইসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বিসিবির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকে চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পরিস্থিতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে আইসিসি স্পষ্ট করে জানায়, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়াকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে দেখলেও এর জন্য বিসিবির ওপর কোনো আর্থিক, প্রশাসনিক বা খেলাসংক্রান্ত জরিমানা আরোপ করা হবে না। আইসিসি আরও জানায়, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বিসিবির অবস্থান তারা নোট করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে সংস্থা সতর্ক থাকবে। একই সঙ্গে আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতে যাওয়ার অধিকার বিসিবির জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ঐতিহ্য, বৃহৎ সমর্থকগোষ্ঠী এবং বৈশ্বিক ক্রিকেটে দেশের অবদান তুলে ধরে আইসিসি জানায়, বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট জাতি হিসেবে বিবেচনা করেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০৩১ সালের আগেই বাংলাদেশে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংস্থার প্রচলিত নীতিমালা ও আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়ার আওতায় বাস্তবায়িত হবে। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সনযোগ গুপ্তা বলেন, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি হতাশাজনক হলেও এটি বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আনবে না।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। পোখারার রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলায় এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের ৩ মিনিটে মামনি চাকমার কর্নার থেকে প্রতিমা মুন্দা প্রথম গোল নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে কোচ পিটার বাটলার দুটি পরিবর্তন আনার পর দলের আক্রমণ আরও শক্তিশালী হয়, এবং আলপি আক্তার ফ্রি কিক থেকে দ্বিতীয় গোলটি করেন। দ্বিতীয়ার্ধে আলপি আক্তার আরও দুটি গোল করেন, ৬৭ মিনিটে এবং ৮২ মিনিটে ক্রানুসিং মারমার ক্রস থেকে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন। রাউন্ড রবিন লিগের সব তিনটি ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে সেরা অবস্থানে থাকলো বাংলাদেশ, ভারতের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। শনিবার এই দুই দল শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে।