বাংলাদেশ

খুন, সন্ত্রাস ও আতঙ্কের নগরী খুলনা

এক বছরে ৮৩ হত্যাকাণ্ড, নদী থেকে শতাধিক লাশ উদ্ধার

Icon
খুলনা
প্রকাশঃ জানুয়ারী ২, ২০২৬

২০২৫ সালে খুলনা ছিল এক ভয়ংকর বাস্তবতার নগরী। শহরের মানুষ রোজ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আতঙ্কে কাটিয়েছে। শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা, সড়ক, নদী তীর, আদালত চত্বরে সন্ত্রাস ও হত্যার দখলে। এক বছরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, খুনের সংখ্যা ৮৩, যার মধ্যে নগরীতে ৩৬ এবং জেলা এলাকায় ৪৬টি। নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে কমপক্ষে শতাধিক লাশ। প্রকাশ্যে আদালত চত্বরে জোড়া খুন, একই পরিবারে তিনজন হত্যাসহ নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসের চিত্র ফুটে উঠেছে।

আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ১১ জুলাই দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ায় সাবেক যুবদল নেতা মাহাবুবুর রহমান মোল্লাকে গুলি ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। ১৭ নভেম্বর মুক্তা কমিশনারের বাড়ির সামনে বৃদ্ধা মহিদুন্নেছা এবং তার দুই নাতি ফাতিহা ও মুস্তাকিম নিহত হন। একই দিনে সোনাডাঙ্গা করিমনগরে আলাউদ্দিন মৃধা গৃহে ঢুকে হত্যা করা হয়। ৩০ নভেম্বর জেলা আদালত চত্বরে হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজনকে হত্যা করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর শলুয়া বাজারে ইমদাদুল হক মিলন এবং ১৪ ডিসেম্বর রূপসা উপজেলার খানজাহান আলী সেতুর কাছে যশোরের সন্ত্রাসী সাগর নিহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, নগরীতে ৩৬টি খুনের মামলা হয়েছে। হত্যার ১৪টি মূল কারণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক ও সন্ত্রাসী গ্রুপের আধিপত্য ১৩টি, পারিবারিক কলহ ৬টি, প্রেমঘটিত হত্যা ২টি, ইজিবাইক চুরি ২টি, পরকীয়া ২টি, জমি বিরোধ ২টি, চোরাই স্বর্ণ বিক্রয় ১টি, ব্যবসায় টাকা লেনদেন ২টি, টিসিবির লাইনে বিরোধ ১টি, বন্ধু কর্তৃক হত্যা ১টি, মারামারি ঠেকাতে গিয়ে হত্যা ১টি, চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকে হত্যা ১টি এবং অজ্ঞাত কারণে ২টি। ২৩টি হত্যা রহস্য উদ্‌ঘাটিত হলেও ১৩টির রহস্য এখনও সমাধান হয়নি।
মাসভিত্তিক খুনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারি ৫, ফেব্রুয়ারি ২, মার্চ ৬, এপ্রিল ৯, মে ১০, জুন ৯, জুলাই ২, আগস্ট ১১, সেপ্টেম্বর ৬, অক্টোবর ১৩, নভেম্বর ৬, ডিসেম্বর ৪টি। থানাভিত্তিক : সদর ১০, সোনাডাঙ্গা ৯, লবণচরা ৫, হরিণটানা ৪, খালিশপুর ৩, দৌলতপুর ৩, আড়ংঘাটা ২। জেলার মধ্যে রূপসা ১৩, তেরখাদা ২, দিঘলিয়া ৩, ফুলতলা ৭, ডুমুরিয়া ৭, বটিয়াঘাটা ৪, দাকোপ ৬, পাইকগাছা ১, কয়রা ৩।
২০২৫ সালে শহরে সাতটি বড় সন্ত্রাসী গ্যাং সক্রিয়। শীর্ষ চরমপন্থি নেতাদের জামিনে মুক্তির পর, দৌলতপুরের টাইগার খোকন হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত নাসিমুল গণি ও আরমান শেখ আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশ বলছে, এ কারণে শহরে নতুন গ্যাং আধিপত্য শুরু করেছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত বাড়ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা মোতালেব শিকদারের হত্যাচেষ্টায় সুটার ঢাকাইয়া শামীম ও মাহাদিন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) ত ম রোকনুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালে ৩৬টি খুনের মামলার মধ্যে মাদকের আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য দেখাতে ১৩টি হত্যার ঘটনা ঘটে।  
র‍্যাব-৬-এর কর্মকর্তা নিস্তার আহমেদ জানান, নির্বাচন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত কিছু সন্ত্রাসী গ্রুপের কার্যক্রম বছরজুড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সন্ত্রাসী ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি।
নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এড. বাবুল হাওলাদার বলছেন, শহরে সহিংসতা ও হত্যার মাত্রা বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও র‍্যাবের কার্যক্রম যথাযথ হলেও, সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিবন্ধকতা না থাকায় অপরাধীরা আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে।
রূপসা উপজেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। গত এক বছরে সেখানে ১৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, অধিকাংশ গুলিতে। পুলিশ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের জামিনে মুক্তির ফলে এলাকায় আধিপত্যের লড়াই বেড়েছে। চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র ব্যবহার ও অন্যান্য স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
পুলিশ বলছে, সোর্স নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে হবে, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে এবং রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত সন্ত্রাসীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খুলনার অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সামাজিক সচেতনতা, রাজনৈতিক সহযোগিতা ও আইন-শৃঙ্খলা কার্যক্রম একযোগে প্রয়োজন।
২০২৫ সালে খুলনা ছিল এক ভয়ংকর বাস্তবতার নগরী। শহরের মানুষ রোজ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আতঙ্কে কাটিয়েছে। শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা, সড়ক, নদী তীর, আদালত চত্বরে সন্ত্রাস ও হত্যার দখলে। এক বছরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, খুনের সংখ্যা ৮৩, যার মধ্যে নগরীতে ৩৬ এবং জেলা এলাকায় ৪৬টি। নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে কমপক্ষে শতাধিক লাশ। প্রকাশ্যে আদালত চত্বরে জোড়া খুন, একই পরিবারে তিনজন হত্যাসহ নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসের চিত্র ফুটে উঠেছে।
আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ১১ জুলাই দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ায় সাবেক যুবদল নেতা মাহাবুবুর রহমান মোল্লাকে গুলি ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। ১৭ নভেম্বর মুক্তা কমিশনারের বাড়ির সামনে বৃদ্ধা মহিদুন্নেছা এবং তার দুই নাতি ফাতিহা ও মুস্তাকিম নিহত হন। একই দিনে সোনাডাঙ্গা করিমনগরে আলাউদ্দিন মৃধা গৃহে ঢুকে হত্যা করা হয়। ৩০ নভেম্বর জেলা আদালত চত্বরে হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজনকে হত্যা করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর শলুয়া বাজারে ইমদাদুল হক মিলন এবং ১৪ ডিসেম্বর রূপসা উপজেলার খানজাহান আলী সেতুর কাছে যশোরের সন্ত্রাসী সাগর নিহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, নগরীতে ৩৬টি খুনের মামলা হয়েছে। হত্যার ১৪টি মূল কারণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক ও সন্ত্রাসী গ্রুপের আধিপত্য ১৩টি, পারিবারিক কলহ ৬টি, প্রেমঘটিত হত্যা ২টি, ইজিবাইক চুরি ২টি, পরকীয়া ২টি, জমি বিরোধ ২টি, চোরাই স্বর্ণ বিক্রয় ১টি, ব্যবসায় টাকা লেনদেন ২টি, টিসিবির লাইনে বিরোধ ১টি, বন্ধু কর্তৃক হত্যা ১টি, মারামারি ঠেকাতে গিয়ে হত্যা ১টি, চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকে হত্যা ১টি এবং অজ্ঞাত কারণে ২টি। ২৩টি হত্যা রহস্য উদ্‌ঘাটিত হলেও ১৩টির রহস্য এখনও সমাধান হয়নি।
মাসভিত্তিক খুনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারি ৫, ফেব্রুয়ারি ২, মার্চ ৬, এপ্রিল ৯, মে ১০, জুন ৯, জুলাই ২, আগস্ট ১১, সেপ্টেম্বর ৬, অক্টোবর ১৩, নভেম্বর ৬, ডিসেম্বর ৪টি। থানাভিত্তিক : সদর ১০, সোনাডাঙ্গা ৯, লবণচরা ৫, হরিণটানা ৪, খালিশপুর ৩, দৌলতপুর ৩, আড়ংঘাটা ২। জেলার মধ্যে রূপসা ১৩, তেরখাদা ২, দিঘলিয়া ৩, ফুলতলা ৭, ডুমুরিয়া ৭, বটিয়াঘাটা ৪, দাকোপ ৬, পাইকগাছা ১, কয়রা ৩।
২০২৫ সালে শহরে সাতটি বড় সন্ত্রাসী গ্যাং সক্রিয়। শীর্ষ চরমপন্থি নেতাদের জামিনে মুক্তির পর, দৌলতপুরের টাইগার খোকন হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত নাসিমুল গণি ও আরমান শেখ আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশ বলছে, এ কারণে শহরে নতুন গ্যাং আধিপত্য শুরু করেছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত বাড়ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা মোতালেব শিকদারের হত্যাচেষ্টায় সুটার ঢাকাইয়া শামীম ও মাহাদিন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) ত ম রোকনুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালে ৩৬টি খুনের মামলার মধ্যে মাদকের আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য দেখাতে ১৩টি হত্যার ঘটনা ঘটে।  
র‍্যাব-৬-এর কর্মকর্তা নিস্তার আহমেদ জানান, নির্বাচন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত কিছু সন্ত্রাসী গ্রুপের কার্যক্রম বছরজুড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সন্ত্রাসী ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি।
নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এড. বাবুল হাওলাদার বলছেন, শহরে সহিংসতা ও হত্যার মাত্রা বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও র‍্যাবের কার্যক্রম যথাযথ হলেও, সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিবন্ধকতা না থাকায় অপরাধীরা আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে।
রূপসা উপজেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। গত এক বছরে সেখানে ১৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, অধিকাংশ গুলিতে। পুলিশ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের জামিনে মুক্তির ফলে এলাকায় আধিপত্যের লড়াই বেড়েছে। চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র ব্যবহার ও অন্যান্য স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
পুলিশ বলছে, সোর্স নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে হবে, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে এবং রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত সন্ত্রাসীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খুলনার অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সামাজিক সচেতনতা, রাজনৈতিক সহযোগিতা ও আইন-শৃঙ্খলা কার্যক্রম একযোগে প্রয়োজন।

বাংলাদেশ

আরও দেখুন
বাগেরহাটে পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষে প্রান্তিক কৃষকের বাম্পার সাফল্য

  বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নের খারইখালী গ্রামে এবার কৃষকের ঘরে ঘরে বইছে আনন্দের ঢেউ। পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা স্বল্প সময়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন। মাত্র ৩৩ শতক প্রতি বিঘা জমিতে ৭–৮ মন সূর্যমুখী ফলন পাচ্ছেন তারা। প্রতিটি মন থেকে ১৩ কেজি তেল উৎপাদন হচ্ছে, যার বাজার মূল্য প্রতি কেজি ৩০০–৩৫০ টাকা। সরেজমিনে দেখা গেছে, পঞ্চকরণ ইউনিয়নের পার্টনার ফিল্ড স্কুলের ২৫ প্রান্তিক কৃষক একই মাঠে ২৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। এছাড়া ইউনিয়নের পাঁচগাঁও বাজার সংলগ্ন ৫ বিঘা এবং পঞ্চকরণ গ্রামের পৃথক মাঠেও চাষ সফল হয়েছে। এক বিঘা জমিতে চাষের জন্য কৃষকের ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫ হাজার টাকা। ফলন অনুযায়ী তারা ৮৫ দিনের মধ্যে প্রতি বিঘা থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। কৃষকরা জানাচ্ছেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ ও আধুনিক চাষ প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এ সফলতা অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি তারা উৎপাদিত ভেজাল মুক্ত তেল স্থানীয় ও বাজারে বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করছেন। প্রতিবছর পাশ্ববর্তী গ্রামের মানুষও এই মনোরম সূর্যমুখীর মাঠ দেখতে আসছেন। পঞ্চকরণ ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীপংকর সোমাদ্দার জানান, কৃষি বিভাগ প্রান্তিক চাষীদের বিনামূল্যে বিঘা প্রতি ১ কেজি সূর্যমুখী বীজ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় এ বছর ১৩৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে, যেখানে পঞ্চকরণ ইউনিয়নের ৩৫ বিঘা জমি অত্যন্ত ভালো ফলন দিয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক তদারকি এবং আবহাওয়ার সহায়ক অবস্থা সফলতার মূল চাবিকাঠি। কৃষকরা আশা করছেন, এই সফলতা আগামী বছরে সূর্যমুখী চাষ আরও বিস্তার করবে এবং প্রান্তিক চাষীর আয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।  

মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0

রংপুরে বাড়ছে হামের প্রকোপ তিন দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

পশ্চিম সুন্দরবনে জলদস্যুর তাণ্ডব, ১০ জেলের অপহরণে আতঙ্ক

সাতক্ষীরায় জ্বালানি সংকটে ফিলিং স্টেশন বন্ধ, ভোগান্তিতে জনজীবন

ছবি: প্রতিনিধি
১ এপ্রিল চরমোনাইয়ে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক মাহফিল শুরু

    বরিশালের চরমোনাইয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ ফাল্গুনের বার্ষিক মাহফিল আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী এ মাহফিলে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। পহেলা এপ্রিল জোহর নামাজের পর পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিমের উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে মাহফিলের সূচনা হবে। তিন দিন তিনি ফজর ও মাগরিবের পর গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করবেন। এছাড়া নায়েবে আমিরুল মুজাহিদীন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিমসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামী চিন্তাবিদরা অংশ নেবেন। আয়োজকরা জানান, মুসল্লিদের সুবিধার্থে ছয়টি বড় মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। মাইকিং, সাউন্ড সিস্টেম, আলোকসজ্জা, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য ১৫০ শয্যার অস্থায়ী হাসপাতালও রাখা হয়েছে। মাহফিলের দ্বিতীয় দিনে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন এবং তৃতীয় দিনে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের বৃহৎ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ১ এপ্রিল শুরু হয়ে ৪ এপ্রিল ফজর নামাজের পর আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মাহফিলের সমাপ্তি ঘটবে। এসময় দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হবে।  

বরিশাল মার্চ ৩১, ২০২৬ 0

অদৃশ্য প্রভাবে দণ্ডপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার শহিদুল এখনো কর্মস্থলে, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন!

ছবি: প্রতিনিধি

দেবীগঞ্জে খোলা বাজারে পেট্রোল বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ৭ দিনের জেল ও ২৭ লিটার পেট্রোল জব্দ

ছবি: প্রতিনিধি

সৈয়দপুরে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফিরিয়ে দিলেন পুলিশ সদস্য

ছবি: প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে সড়ক প্রশস্তকরণে খাল-ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ

  নোয়াখালীর আলেকজান্ডার-সোনাপুর-মান্নান নগর সড়কের প্রশস্তকরণ কাজকে কেন্দ্র করে খাল ও ফসলি জমি কাটার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সড়ক ও বসতভিটা ধসে পড়তে পারে এবং কৃষিজমির উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ জানায়, নোয়াখালী অংশের ১৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের জন্য বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিয়াভেল বিল্ডার্স। সরাসরি দেখা যায়, মান্নান নগর, হানিফ চেয়ারম্যান বাজার, নুরুপাটোয়ারীর হাট, সুবর্ণচরের চেওয়াখালী বাজার ও আজাদ নগর এলাকায় খাল, ফসলি জমি, বাড়ির বাগান ও মসজিদের জমি থেকে ভেকু ব্যবহার করে মাটি কেটে সড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে। খালের গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় সড়ক ও আশপাশের বাড়িঘর ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সড়ক সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল থেকে মাটি কাটার ফলে অর্ধশতাধিক পোল ও কালভার্ট ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এছাড়া ফসলি জমির উর্বর মাটি নষ্ট হওয়ায় কৃষি উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা একাধিকবার বাধা দিলেও ঠিকাদারি দলের লোকজন তা উপেক্ষা করেছে। এক ঠিকাদারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দরপত্র অনুযায়ী মাটি ভিন্ন স্থান থেকে আনা হওয়ার কথা থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে পাশের খাল ও ফসলি জমি থেকে মাটি কাটছে, যা পূর্ণতই অনিয়ম। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ঠিকাদারকে পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, খাল ও ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার কোনো অনুমতি নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি খাল বা ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; প্রমাণিত হলে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী দ্রুত অনিয়ম বন্ধ ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

নোয়াখালী প্রতিনিধি> মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

সৈয়দপুরে স্কাউটের বেসিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

ছবি: প্রতিনিধি

বাকেরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৭

ছবি: প্রতিনিধি

ময়মনসিংহে ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড নিয়ে জেলা কমিটির সভা

0 Comments