মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের এক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে সংঘবদ্ধ একটি চোর চক্র খানপাড়া এলাকার একটি ফাঁকা স্থানে স্থাপিত বিদ্যুতের খুঁটির ট্রান্সফর্মার চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে যায়। এ সময় তারা ট্রান্সফরমারের সঙ্গে লাগানো শিকল ও তালা কাটার চেষ্টা করে।
একপর্যায়ে ট্রান্সফরমারটি খুলে ফেলার আগেই হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চোর চক্রের এক সদস্য নিচে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাত হওয়ায় নিহতের মরদেহ সামান্য দূরে সরিয়ে রেখে চক্রের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে পথচারীদের নজরে বিষয়টি এলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
স্থানীয়রা জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও একই এলাকার পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনা ঘটেছিল। বারবার এমন চুরির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে।
সিংগাইর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা থানা-পুলিশকে অবহিত করি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।”
নোয়াখালীর জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয় ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) ঠিকাদারদের একদল কর্মকর্তা ও সহযোগীরা অভিযোগ তুলে কার্যালয়ে ঢুকে নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রাখেন। ঠিকাদাররা দাবি করেন, পানি সরবরাহ ও নলকূপ স্থাপনের কাজে ব্যবহৃত কয়েক কোটি টাকার মালামাল ‘গোপনে’ নামমাত্র মূল্যে নিলাম দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার শর্তে সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হচ্ছে। অবরোধ চলাকালে কার্যালয়ের ভেতরে এবং বাইরে ঠিকাদারদের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলীর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। জেলা বিএনপির সদস্য ও ঠিকাদার আবদুল মোতালেব অভিযোগ করেন, নির্বাচনী ব্যস্ততার সুযোগে মালামাল নিলাম এবং প্রকল্প বরাদ্দের মাধ্যমে অনিয়ম ঘটানো হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, গুদামের মালামাল নিলাম তার আদেশে হয়নি এবং ঘুষ আদায়ের অভিযোগও ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, নিলাম প্রক্রিয়াটি ঢাকা থেকে পরিচালিত হয়েছে এবং অবরোধের পর ঠিকাদারদের দাবির ভিত্তিতে কার্যাদেশ বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নরম হওয়া সত্ত্বেও ঘটনা ন্যায়বিচার ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য যথাযথ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
সাতক্ষীরার বিনেরপোতা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) আঞ্চলিক কার্যালয়ে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গেস্ট হাউস ব্যবহার ও অফিস পরিচালনায় অননুমোদিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম ব্রির কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্রি ক্যাম্পাসের গেস্ট হাউসে বসবাস করছেন, অথচ প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সর্বোচ্চ সাত দিনের বেশি থাকতে পারেন না। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি অফিসের প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন কাজে হস্তক্ষেপ করছেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হুমকি-ভয় দেখাচ্ছেন এবং অশালীন ভাষায় কথা বলছেন। এছাড়া সরকারি ক্রয়বিধি উপেক্ষা করে এককভাবে প্রভাব খাটানো, মোটরসাইকেলে অফিস লোগো ব্যবহার ও প্রদর্শনী জমি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে।শরিফুল ইসলাম অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি শুধু দীর্ঘদিন ধরে ব্রির সঙ্গে যুক্ত এবং কোনো ক্ষমতা বা সিদ্ধান্ত নেন না। গেস্ট হাউস ব্যবহারে তার অবস্থান সাময়িক এবং মোটরসাইকেলের স্টিকার তার নিজস্ব নয়। ব্রি সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো: সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্যাম্পাসে যাতায়াত নতুন নয় এবং ২০১৬ সাল থেকে চলমান। তিনি বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য আগ্রহীদের কার্যালয়ে এসে কথা বলার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে এক প্রার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কক্সবাজার-৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ডাকযোগে পাওয়া একটি উড়োচিঠিতে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। চিঠির খামের ভেতরে একটি সাদা কাপড়ের টুকরো পাওয়া যায়, যা কাফনের কাপড় হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। চিঠিতে কথিত ‘ব্যাটালিয়ন-৭১’-এর কক্সবাজার আঞ্চলিক সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে একজনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে এবং তিনি ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রয়েছেন। চিঠির তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫। ঘটনার পর শাহজাহান চৌধুরী উখিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফোন করে তার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। এদিকে, বিষয়টি জানার পর নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ হুমকির বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর আহমদ বলেন, জিডি গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দাবি করেছেন।