ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা। রোববার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আগে ২৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৯ জনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বর্তমানে তিন আসনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১৮। বাতিল প্রার্থীরা: • মানিকগঞ্জ–১: আব্দুল আলী বেপারী (স্বতন্ত্র), মো. শাহজাহান খান (জনতা দল) • মানিকগঞ্জ–২: আবিদুর রহমান নোমান (স্বতন্ত্র), মো. আব্দুল হক মোল্লা (বিএনপি), এস এম আব্দুল মান্নান (জাতীয় পার্টি) • মানিকগঞ্জ–৩: আতাউর রহমান আতা, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (এবি পার্টি), রফিকুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), মো. ফারুক হোসেন (স্বতন্ত্র) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে অসত্য তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর অনুপস্থিত ছিল, একজন ঋণখেলাপি ছিলেন। বৈধ প্রার্থীরা: • মানিকগঞ্জ–১: বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিস, মাইনরিটি জনতা পার্টি, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা • মানিকগঞ্জ–২: বিএনপি, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা • মানিকগঞ্জ–৩: বিএনপি, গণফোরাম, জামায়াতে ইসলামী, জাসদ, খেলাফত মজলিস, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে মোট ৩২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন, এর মধ্যে ২৭ জন জমা দিয়েছেন।
সাতক্ষীরার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা নিশ্চিত করতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলার ১০৯৫টি সরকারি বিদ্যালয়ের অধিকাংশ খেলার মাঠ দীর্ঘদিন ধরে বেদখল বা অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। নতুন উদ্যোগে মাঠ পুনরুদ্ধার করে ব্যবহারযোগ্য করা হবে এবং প্রতি বৃহস্পতিবার কো-কারিকুলার কার্যক্রম হিসেবে নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা চালু রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: রুহুল আমীন জানান, খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুরা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, নেতৃত্বগুণ, দলবদ্ধ কাজের দক্ষতা ও সামাজিক আচরণ উন্নত করতে পারবে। শিক্ষাবিদ প্রফেসর আব্দুল হামিদ বলেন, খেলাধুলা ও অন্যান্য কো-কারিকুলার কার্যক্রম শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা, সামাজিকীকরণ ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে অপরিহার্য। তিনি বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম না থাকলে শিশুরা স্থূলতা, মানসিক চাপ ও আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগতে পারে। উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যালয় ও আশপাশের মাঠগুলো শিশু ও স্থানীয় কমিউনিটির জন্য নিরাপদ ও কার্যকর খেলার জায়গা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে মাঠ ব্যবস্থাপনায় কমিউনিটির অংশগ্রহণ ও মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখা হবে। সাতক্ষীরার শিক্ষা কর্মকর্তা আশা করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও উন্নত খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানও বৃদ্ধি পাবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য টাঙ্গাইলের আটটি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ২৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ও শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুই দিনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মোট ৬৫ জন প্রার্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি, আয়-ব্যয়ের সঠিক কাগজপত্র জমা না দেওয়া, সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা এবং অবসর পরবর্তী নির্ধারিত সময় পূর্ণ না হওয়া প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) চারটি আসনে নয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। এর মধ্যে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোন্তাজ আলী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হারুন অর রশীদের মনোনয়ন বাতিল হয়। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোয়ার হোসেন সাগরের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। টাঙ্গাইল-৩(ঘাটাইল) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আইনিন নাহার ও শাহজাহান মিয়া, টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলী আমজাদ হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম মিঞা ও ডা. শাহ আলম তালুকদারের মনোনয়ন বাতিল হয়। শনিবার (৩ জানুয়ারি) চারটি আসনে আরও ১৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে পাঁচজন, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলমুয়ার) আসনে পাঁচজন, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে তিনজন এবং টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করা হবে। তিনি বলেন, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিলের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার সুযোগ পাবেন।