‘প্রযুক্তি ও মমতায়, কল্যাণ ও সমতায়, আস্থা আজ সমাজ সেবায়’—এই প্রতিপাদ্যে নীলফামারীতে জাতীয় সমাজসেবা দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা, ঋণ বিতরণ ও সেরা কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন সমাজকর্মীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দীক। প্রধান অতিথি ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সামাদ শিকদার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম ফয়জুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে ২৮ জন সদস্যের জন্য ১১ লাখ ৭০ হাজার টাকার ঋণ বিতরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৫ জনকে ঋণের চেক দেওয়া হয়। এছাড়া ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ৩ জন কর্মকর্তা ও ৩ জন ইউনিয়ন সমাজকর্মীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন—শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা হৃদয় হোসেন, নীলফামারী হাসপাতাল সমাজসেবা কর্মকর্তা নুরুন্নাহার নুরী, জলঢাকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান এবং সমাজকর্মী কাওছার বেগ, আরিফুর রহমান ও জান্নাতুল ফেরদৌস বিন্তি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরেও সৈয়দপুর পৌর এলাকায় বিভিন্ন সড়ক, পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ঝুলে আছে। অনেক জায়গায় এগুলো ছিঁড়ে রাস্তায় পড়ে বা গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুলে থেকে নগর সৌন্দর্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। নির্বাচনী বিধিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রার্থীদের নিজস্ব প্রচারণা সামগ্রী অপসারণ করতে হবে। তবে এখনও প্রার্থীদের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। নির্বাচন কমিশন পরিবেশ সুরক্ষার কারণে কাগজের পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও বাস্তবে প্রার্থীরা পিভিসি, রেক্সিন, অপচনশীল কাপড় ও প্লাস্টিকের ব্যানার ব্যবহার করেছেন। সরেজমিনে শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক, শেরেবাংলা রোড, জিআরপি চত্বর ও ক্যান্টনমেন্ট সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেক ব্যানার এখনও ঝুলে আছে। অনেক জায়গায় খোলা ব্যানার ও ফেস্টুন ফুটপাত ও ড্রেনে পড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে। সৈয়দপুরের সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, “প্লাস্টিক ও অপচনশীল ব্যানারের এই ব্যবহার পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। দ্রুত অপসারণ জরুরি।” সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, নির্বাচন শেষে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রার্থীদের অপসারণের নির্দেশনা রয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে তখনই কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে, যদি কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসে। উল্লেখ্য নীলফামারী-৪ আসনের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম জয়লাভ করেছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির আব্দুল গফুর সরকার ও জাতীয় পার্টির সিদ্দিকুল আলম।
ফকিরহাট উপজেলার মানসা কালী মন্দিরের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় মন্দির চত্বরে আয়োজিত সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে ২৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। সভায় রবীন্দ্রনাথ হালদার বাটুলকে পুনরায় সভাপতি, বাবলু কুমার আশকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক এবং শেখর রায়কে পুনরায় কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করা হয়। কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন— সহ-সভাপতি দীপক কুমার ঘোষ, কমলেশ সিংহ ও নারায়ন চন্দ্র সেন; সহ-সাধারণ সম্পাদক মিলন কুমার সেন ও দুলাল চন্দ্র পাল; সহকারী কোষাধ্যক্ষ অসিম কুমার ঘোষ; সাংগঠনিক সম্পাদক মহিতোষ ভট্টাচার্য; দপ্তর সম্পাদক মানিক পাল; ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বাসুদেব মুখার্জী; সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক অরবিন্দু মল্লিক এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রশান্ত ব্যাপারী। নবগঠিত কমিটির সদস্যরা মন্দিরের সার্বিক উন্নয়ন, ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ট্রান্সমিটার এলাকায় একটি তেলবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামুল উদ্দিন ভুঁইয়া দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সোনাপুর থেকে কবিরহাটগামী ট্রাকটি দুর্ঘটনার শিকার হলে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয় এবং আরও তিনজন আহত হন। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা সড়ক অবরোধ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।