একুশের প্রথম প্রহরেই শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পাঞ্জলি

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান। এর পর রাত ১২টা ৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ বেদীতে ফুল দেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর একুশের প্রথম প্রহরে এটিই ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন।

প্রধানমন্ত্রী তার স্ত্রী জোবায়দা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের রুহের মাগফেরাত ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির নেতারা পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে রাত ১২টা ২১ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন।
বাগেরহাটে গভীর শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরন
বাগেরহাট প্রতিনিধি>

বাগেরহাট-এ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়েছে।
একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
এসময় বাগেরহাট-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন, পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সমন্বয়ক এম এ সালামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” গানের সুরে রাতভর চলে শ্রদ্ধা নিবেদন।
একুশের প্রথম প্রহরে সৈয়দপুরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার ঢল
সৈয়দপুর, নীলফামারী প্রতিনিধি>

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে সৈয়দপুর সরকারি কলেজ শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়েছে। রাত গভীর হলেও শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সূচনা করেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। পরে পর্যায়ক্রমে সৈয়দপুর থানা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রেস ক্লাবসহ সরকারি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এ সময় ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’সহ দেশাত্মবোধক গান পরিবেশিত হয়। অনেকেই কালো ব্যাজ ধারণ ও খালি পায়ে শ্রদ্ধা জানান।

রাত থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সূর্যোদয়ের পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে শ্রদ্ধা নিবেদন আরও বিস্তৃত হবে। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
দিবস ঘিরে এলাকায় শোকাবহ ও গম্ভীর পরিবেশ বিরাজ করছে। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও সচেতনতা জাগ্রত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বরিশালে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, বিভাগীয় উর্ধ্বতনরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ
বরিশাল>

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বরিশালে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেছেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মাহফুজুর রহমান, ডি আই জি মনজুর মোর্শেদ আলম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম সুমন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বরিশাল প্রেসক্লাব, বরিশাল সাংবাদিক ফোরাম এবং বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরেও সৈয়দপুর পৌর এলাকায় বিভিন্ন সড়ক, পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ঝুলে আছে। অনেক জায়গায় এগুলো ছিঁড়ে রাস্তায় পড়ে বা গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুলে থেকে নগর সৌন্দর্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। নির্বাচনী বিধিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রার্থীদের নিজস্ব প্রচারণা সামগ্রী অপসারণ করতে হবে। তবে এখনও প্রার্থীদের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। নির্বাচন কমিশন পরিবেশ সুরক্ষার কারণে কাগজের পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও বাস্তবে প্রার্থীরা পিভিসি, রেক্সিন, অপচনশীল কাপড় ও প্লাস্টিকের ব্যানার ব্যবহার করেছেন। সরেজমিনে শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক, শেরেবাংলা রোড, জিআরপি চত্বর ও ক্যান্টনমেন্ট সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেক ব্যানার এখনও ঝুলে আছে। অনেক জায়গায় খোলা ব্যানার ও ফেস্টুন ফুটপাত ও ড্রেনে পড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে। সৈয়দপুরের সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, “প্লাস্টিক ও অপচনশীল ব্যানারের এই ব্যবহার পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। দ্রুত অপসারণ জরুরি।” সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, নির্বাচন শেষে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রার্থীদের অপসারণের নির্দেশনা রয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে তখনই কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে, যদি কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসে। উল্লেখ্য নীলফামারী-৪ আসনের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম জয়লাভ করেছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির আব্দুল গফুর সরকার ও জাতীয় পার্টির সিদ্দিকুল আলম।
ফকিরহাট উপজেলার মানসা কালী মন্দিরের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় মন্দির চত্বরে আয়োজিত সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে ২৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। সভায় রবীন্দ্রনাথ হালদার বাটুলকে পুনরায় সভাপতি, বাবলু কুমার আশকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক এবং শেখর রায়কে পুনরায় কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করা হয়। কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন— সহ-সভাপতি দীপক কুমার ঘোষ, কমলেশ সিংহ ও নারায়ন চন্দ্র সেন; সহ-সাধারণ সম্পাদক মিলন কুমার সেন ও দুলাল চন্দ্র পাল; সহকারী কোষাধ্যক্ষ অসিম কুমার ঘোষ; সাংগঠনিক সম্পাদক মহিতোষ ভট্টাচার্য; দপ্তর সম্পাদক মানিক পাল; ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বাসুদেব মুখার্জী; সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক অরবিন্দু মল্লিক এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রশান্ত ব্যাপারী। নবগঠিত কমিটির সদস্যরা মন্দিরের সার্বিক উন্নয়ন, ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ট্রান্সমিটার এলাকায় একটি তেলবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামুল উদ্দিন ভুঁইয়া দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সোনাপুর থেকে কবিরহাটগামী ট্রাকটি দুর্ঘটনার শিকার হলে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয় এবং আরও তিনজন আহত হন। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা সড়ক অবরোধ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।