ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মহান শহীদ দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সদ্য নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই স্থান ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার সমর্থকরা সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ও বাঁশে অগ্নিসংযোগ করে সড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সমর্থকদের দাবি, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং সংসদ সদস্যকে শ্রদ্ধা নিবেদনে বাধা দেয়। তারা অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পরে নিজ গ্রাম শাহবাজপুরে সাংবাদিকদের কাছে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, তার ওপর পরিকল্পিত হামলার চেষ্টা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে ভুট্টা ক্ষেত থেকে এক ইজিবাইক চালকের লাশ উদ্ধার করেছে ইসলামপুর থানা পুলিশ। নিহতের নাম জুয়েল (৩০), তিনি মেলান্দহ উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর বটতলা গ্রামের মুনা মিয়ার ছেলে। পুলিশ ও পরিবারের বরাতে জানা যায়, রোববার (৫ এপ্রিল) ভোর ৪টার দিকে জুয়েল স্বজনদের ট্রেনে চড়াতে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এর পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা ইসলামপুর-মাহমুদপুর সড়কের পাশে আমতলী (পল্টন পাড়) এলাকায় বস্তাবন্দি লাশ পড়ে থাকতে দেখে ট্রিপল লাইনে খবর দেন। ইসলামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং পরে নিহতের স্বজনরা লাশ শনাক্ত করেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, হত্যাকারীরা জুয়েলকে হত্যা করে তার ইজিবাইক ছিনতাই করেছে। ইসলামপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কায়ুউম গাজী জানিয়েছেন, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে, যা জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জন হত্যার মামলার সঙ্গে যুক্ত ১৮ জন পলাতক ও চার জন গ্রেফতার আসামিকে লক্ষ্য করে। ট্রাইব্যুনাল প্যানেল, চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের শাখায় গণ্য, এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য ট্রাইব্যুনাল আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। ইতিমধ্যে চার জন গ্রেফতার রয়েছে, বাকিদের বিরুদ্ধে এখন অভিযান শুরু হবে।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়ায় খোলপেটুয়া নদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) নদীর প্রবল স্রোতে বাঁধের প্রায় ১০০ হাত এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্লাবনের আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, বাঁধে সম্প্রতি বালির ব্যাগ (জিও ব্যাগ) ফেলে সংস্কার করা হয়েছিল, কিন্তু ফাটল দেখা দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে ও আগের দিনের প্রবল স্রোতে সবুর গাজীর বাড়ির পাশের অংশ ধসে পড়েছে, এছাড়া বাঁধের উত্তর ও দক্ষিণে আরও দুটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী রুহুল কুদ্দুস জানান, উত্তরের ৫০ ফুট ও দক্ষিণের ১০০ ফুটে নতুন ভাঙন দেখা দিচ্ছে। গত বছর ঈদুল ফিতরের দিনও এই বাঁধ ভেঙে আনুলিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছিল এবং ব্যাপক ফসল ও মৎস্য ঘেরের ক্ষতি হয়েছিল। আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, “বাঁধের অবস্থা নাজুক। প্রতি মুহূর্তে মাটি নদীতে চলে যাচ্ছে। দ্রুত ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে সংস্কার না হলে পুরো এলাকা প্লাবিত হতে পারে।” সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানিয়েছেন, ভাঙনের খবর পেয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়রা টেকসই সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্যোগ ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।