পৌষের কনকনে শীত ও সবুজ প্রকৃতির টানে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে বেড়েছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকের ভিড়ে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে চায়ের রাজ্য খ্যাত এই জেলায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, মাধবকুণ্ড ও হামহাম জলপ্রপাত, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান ও শমশেরনগর গলফ মাঠসহ বিভিন্ন স্পটে প্রতিদিনই পর্যটকের আনাগোনা রয়েছে। দেশীয় পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকরাও ভ্রমণে আসছেন।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের টিকিট কাউন্টার সূত্র জানায়, গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক উদ্যানে প্রবেশ করেছেন। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের বিশেষ টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, শীত মৌসুমে হোটেল, রিসোর্ট ও পরিবহনসহ পর্যটনভিত্তিক ব্যবসা ভালো যাচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
টুরিস্ট পুলিশের শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান চৌধুরী জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সব পর্যটন কেন্দ্রে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুর্গম চার গ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে প্রায় দুই হাজার মানুষের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের টানা ১৩ দিনের প্রচেষ্টায় ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৬শ ফুট উচ্চতার কালাপাহাড় রেঞ্জের প্রাকৃতিক উৎস থেকে পানি সরবরাহ করা হয়। সেনা সূত্র জানায়, ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বিরোধী অভিযানে গিয়ে ওই এলাকার দীর্ঘদিনের পানি সংকটের বিষয়টি নজরে আসে। পরে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও গুইমারা রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে ইন্দ্রসিংপাড়া, শুকনাছড়ি, পাংকুপাড়া ও হাতিছড়া গ্রামে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। লক্ষ্মীছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম জানান, কোনো ধরনের বিদ্যুৎ বা মোটর ছাড়াই প্রাকৃতিক উৎস থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ৩৭৬টি পরিবার উপকৃত হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীরা সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের মজমপাড়া এলাকায় রস ছাড়াই ভেজাল খেজুরের গুড় তৈরির অভিযোগে এক হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে গুড় তৈরির সরঞ্জাম, চুলা, চিটাগুড় এবং প্রায় ১০ কেজি ভেজাল গুড় জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন মানিকগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ককেল নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে খেজুরের রস ছাড়াই চিটাগুড় ব্যবহার করে ভেজাল গুড় তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করছিলেন। সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার উদ্দেশ্যে নিয়মিত প্রতিদিন ১০–১৫ কেজি করে ভেজাল গুড় উৎপাদন করা হচ্ছিল। অভিযানে প্রমাণ পাওয়ায় গুড় ধ্বংসের পাশাপাশি জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) আনুমানিক সকাল নয়টার দিকে তার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে অভিযুক্তকে নালিতাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়। আটক ইসলাম উদ্দিন উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ পলাশীকুড়া গ্রামের মৃত শমশের আলীর ছেলে। ভিকটিমের জেঠিমার ভাষ্যমতে, সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে কসমেটিক্স কেনার জন্য শিশুটি তার বাড়িতে গেলে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তাকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ দেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রাত আটটার দিকে তাকে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধর্ষণের আলামত পান এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে ভিকটিম তার মায়ের কাছে ঘটনার বিবরণ দিলে অভিযুক্তের নাম প্রকাশ পায়। নালিতাবাড়ী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান মিজান জানান, অভিযুক্তকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে এবং ভিকটিমের মা বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।