আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-২ (নকলা–নালিতাবাড়ী) আসনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং অফিসার প্রার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। এতে এক প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত, দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. ফাহিম চৌধুরীর দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তার মনোনয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাগজপত্র দাখিল করলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অপরদিকে কাগজপত্রের ঘাটতি ও ঋণখেলাপিসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বেলাল এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ইলিয়াস খানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েছের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের এ সিদ্ধান্তে শেরপুর-২ আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে, যা জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জন হত্যার মামলার সঙ্গে যুক্ত ১৮ জন পলাতক ও চার জন গ্রেফতার আসামিকে লক্ষ্য করে। ট্রাইব্যুনাল প্যানেল, চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের শাখায় গণ্য, এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য ট্রাইব্যুনাল আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। ইতিমধ্যে চার জন গ্রেফতার রয়েছে, বাকিদের বিরুদ্ধে এখন অভিযান শুরু হবে।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়ায় খোলপেটুয়া নদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) নদীর প্রবল স্রোতে বাঁধের প্রায় ১০০ হাত এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্লাবনের আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, বাঁধে সম্প্রতি বালির ব্যাগ (জিও ব্যাগ) ফেলে সংস্কার করা হয়েছিল, কিন্তু ফাটল দেখা দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে ও আগের দিনের প্রবল স্রোতে সবুর গাজীর বাড়ির পাশের অংশ ধসে পড়েছে, এছাড়া বাঁধের উত্তর ও দক্ষিণে আরও দুটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী রুহুল কুদ্দুস জানান, উত্তরের ৫০ ফুট ও দক্ষিণের ১০০ ফুটে নতুন ভাঙন দেখা দিচ্ছে। গত বছর ঈদুল ফিতরের দিনও এই বাঁধ ভেঙে আনুলিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছিল এবং ব্যাপক ফসল ও মৎস্য ঘেরের ক্ষতি হয়েছিল। আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, “বাঁধের অবস্থা নাজুক। প্রতি মুহূর্তে মাটি নদীতে চলে যাচ্ছে। দ্রুত ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে সংস্কার না হলে পুরো এলাকা প্লাবিত হতে পারে।” সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানিয়েছেন, ভাঙনের খবর পেয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়রা টেকসই সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্যোগ ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া আউলিয়াঘাট এলাকায় রবিবার (৫ মার্চ) দুপুরে করতোয়া নদীতে গোসল করতে নেমে এক যুবক তলিয়ে যান। দীর্ঘ ৫ ঘন্টা চেষ্টা ও উদ্ধার অভিযান শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নদী থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবক বদেশ্বরী গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে সজীব। স্থানীয় সূত্র জানায়, সজীবসহ চারজন যুবক দুপুরে নদীতে গোসলের উদ্দেশ্যে নেমে। সাঁতার না জানা সজীব গভীর পানিতে তলিয়ে গেলে অপরদের মধ্যে দুইজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। প্রাথমিক উদ্ধার কার্যক্রমে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা ৪ ঘন্টা তল্লাশি চালালেও সফল হননি। পরে রংপুর থেকে আসা ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎপরতা চালিয়ে নদী তলদেশ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, নদীতে বালু উত্তোলনের কারণে খরার মৌসুমেও ৩০-৪০ ফুট গভীর চোরার বালি গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। এ ধরনের গর্তের কারণে নদীতে গোসলের সময় বিপদজনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা সজীবের মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।