জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলম এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও একই আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির একসঙ্গে দেশ ও পঞ্চগড়ের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় তারা কোলাকুলি করে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
সারজিস আলম বলেন, দল ও আদর্শ ভিন্ন হলেও পঞ্চগড় ও দেশের স্বার্থে সবাই একসঙ্গে কাজ করবে। নির্বাচন শেষের পরও এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বলেন, দলের শোকের মধ্যেও সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী বিএনপি নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি সারজিস আলমের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানান, পঞ্চগড় জেলার দুইটি আসনে ১৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে পঞ্চগড়-১ আসনে সাতজন এবং পঞ্চগড়-২ আসনে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে পঞ্চগড়-১ আসনে একজন এবং পঞ্চগড়-২ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
পঞ্চগড় জেলা শহরের ধাক্কামারা এলাকায় সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ক্ষুব্ধ নেসকোর গ্রাহকরা সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অবরোধের পর প্রশাসনের আশ্বাসে তারা সড়ক ছাড়েন। জানা যায়, নেসকোর বিসিক ফিডারে ত্রুটি ঠিক করার সময় রবিবার দুপুরে বিদ্যুৎ খুঁটিতে উঠে মেরামতকাজের সময় শাহিন ইসলাম নামে এক লাইনম্যান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এই দুর্ঘটনার পর থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বেলা ১১টা থেকে নেই। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কয়েক হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছেন, বাসাবাড়িতে খাবার ও রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে, দোকানপাট ও বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থবির হয়ে গেছে।
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আমবাগিচায় গ্যাসলাইটার কারখানায় শনিবার লাগা আগুনে ছয় শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে একজন, ৪৯ বছর বয়সী মঞ্জু বেগম, শনাক্ত হয়েছেন তার ২৬ বছর বয়সী ছেলে সাব্বির হোসেনের মাধ্যমে। মায়ের পোড়া মরদেহের হাতের মুঠিতে থাকা চাবি ও পোড়া ওড়নার অংশ দেখেই সাব্বির নিশ্চিত হয়েছেন যে, এটি তার মা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন নেভানোর পর পোড়া লাশ উদ্ধার করেন। তিনজন নিহত শ্রমিকের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে; বাকিদের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে কারখানার মালিক পক্ষের সহযোগী ও স্থানীয় নেতা ইমান উল্লাহ ওরফে মাস্তানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মালিক আকরাম উল্লাহ ও অন্যান্য আসামি এখনও পলাতক। পুলিশ অগ্নিকাণ্ড, হত্যা ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করেছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং ৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মার্কসবাদী) এই ঘটনাকে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করে, দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ফেনী ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে দিনব্যাপী অভিষেক ও ফ্যামিলি ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের বাগানবাড়ি রোডে নিহাল পল্লী পার্কে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই আয়োজন চলে। সংগঠনের সদস্য সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়। আয়োজকদের বক্তব্য, পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করা এবং সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সম্প্রীতি জোরদার করাই মূল উদ্দেশ্য। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি শাহাদাত হোসাইন, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এম. শরীফ ভূঁঞা। অনুষ্ঠানে সদ্য প্রয়াত সহ-সভাপতি ফিরোজ আলমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অভিষেক পর্বে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের পরিচিতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দৈনিক সমকালের সাবেক স্টাফ রিপোর্টার শাহজালাল রতন এবং ফিরোজ আলমকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়। সংগঠনের সদস্যদের কল্যাণে লাইফ ফান্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মোট ৩১টি পরিবারের শতাধিক সদস্য অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন সভাপতি শাহাদাত হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এম. শরীফ ভূঁঞা, সহ-সভাপতি সাহেদ চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ ভূঁইয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ওমর ফারুক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক কামরুল হাসান নিরবসহ অন্যান্য সদস্যরা। এছাড়া সদস্যদের মধ্যে মিজানুর রহমান, শাহাদাত পাঠান, আবদুল আলীম সবুজ, আরিফ উদ্দীন, নজরুল ইসলাম সোহাগ, আজিজ সায়েম, কবি ইকবাল চৌধুরী, রাজু আহমেদ, কবি আতিক বাদল ও আলা উদ্দিন লিংকনও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।