আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য গাজীপুর-৫ আসনের ভোট প্রস্তুতি চলছে। আসনে কালীগঞ্জ উপজেলার একটি পৌরসভা, ৭টি ইউনিয়ন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পুবাইল ইউনিয়নের ৪০, ৪১ ও ৪২নং ওয়ার্ড এবং গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত।
নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১২৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৪টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি কেন্দ্র ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত। কালীগঞ্জ উপজেলার ৯০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৯টি ঝুঁকিপূর্ণ, আর সিটি কর্পোরেশন ও বাড়িয়া ইউনিয়নের ৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ।
কেন্দ্রীয় ভোটার সংখ্যা:
• কালীগঞ্জ পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন: ২,৫৯,৩৪২ জন
• পুবাইল ইউনিয়ন ও বাড়িয়া ইউনিয়ন: ৯৫,৩০১ জন
মোট ভোটার: ৩,৫৪,৬৪৩ জন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জাকির হোসেন জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, “ভোটারদের নির্বিঘ্নে এবং ভয়ভীতিহীনভাবে ভোট দিতে সাহায্য করতে সেনা, পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিটি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। কেউ ভোট বানচালের চেষ্টা করলে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।”
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মহালছড়ি উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে যৌথ বাহিনী বিশেষ টহল ও ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শুরু করেছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী কার্যক্রমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা অংশ নেন। টহলকালে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, জনবহুল এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো বিশেষভাবে পরিদর্শন করা হয়। ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং শৃঙ্খলা রক্ষার প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ভোটের আগের দিন, ভোটের দিন এবং ভোট পরবর্তী সময় পর্যন্ত টহল কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রাখা হয়েছে। নির্বাচনী অপরাধ, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। স্থানীয়রা জানান, যৌথ বাহিনীর এই তৎপরতায় ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য হবে।
বাগেরহাট-১ আসনের ফকিরহাট উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ভোটের মাঠে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়ে গেছে। প্রশাসনের ঝুঁকি বিশ্লেষণে উপজেলার ৫২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১০টি অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ, ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৮টি সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অর্থাৎ মোট কেন্দ্রের প্রায় ৬৩ শতাংশ ঝুঁকির আওতায় রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনার কারণে ৩৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সকল কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমনা আইরিন সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করছেন। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখতে ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সভা সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলায় দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আচরণবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন। ৮ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেবেন। এছাড়া ৬৭৬ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য ভোট কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু এলাকায় ভয়ভীতি ও প্রভাব বিস্তার এখনও থাকায় ভোটারদের উপস্থিতি কমতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জানিয়েছে, তারা সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতির মাধ্যমে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সতর্ক। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণই সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা নিশ্চিত করবে।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে ভোটের মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শহর ও গ্রামে প্রার্থী, সমর্থক ও কর্মীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রতিটি বাড়ি ও গ্রামে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, লিফলেট বিতরণ ও প্রার্থীর পক্ষ সমর্থন জানানো হচ্ছে। কামারপুকুর ইউনিয়নের নিয়ামতপুরে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের সিদ্দিকুল আলমের প্রচারণায় প্রায় ৩০ জন নারী ও পুরুষ দলবদ্ধভাবে অংশ নিচ্ছেন। তারা হাতে লিফলেট, গলায় প্রতীক প্রদর্শন করে গ্রামে গ্রামে ভোটারদের কাছে প্রার্থীর উদ্দেশ্য তুলে ধরছেন। প্রতিটি প্রচারণা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কর্মীদের কিছু অর্থ প্রাপ্তি হয়। এই প্রচারণার মাধ্যমে প্রার্থী ও দলের উপস্থিতি গ্রামে দৃশ্যমান হচ্ছে। এই আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সক্রিয়ভাবে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সমর্থন পাওয়ায় নির্বাচনী মাঠ আরও সরগরম হয়ে উঠেছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রার্থী ও সমর্থকদের ব্যস্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নির্বাচন উৎসবমুখর হলেও প্রতিটি দল তাদের কর্মীদের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে প্রার্থীর প্রস্তাব ও যোগ্যতা তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এই প্রচারণার মাধ্যমে ভোটাররা প্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হতে পারছে, যা ভোট গ্রহণের পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।