নির্বাচনী শুরুর আগে ঢাকা–১৭ আসনে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে পথসভা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি নিজেকে এলাকার সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভোটারের কাছে সমর্থনের আবেদন জানান।
তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি জেতে শহর ও দেশের নিরাপত্তা, শহরের চলাচল ব্যবস্থার উন্নয়ন ও খেলার মাঠ সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, ঢাকার জনগণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারবে এবং শহরের অবকাঠামো আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি গোষ্ঠী নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে এবং সেই হতাশা থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চলছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এমন সব তৎপরতা রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিহত করা হবে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নির্বাচনী প্রচারণাকালে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভোটকেন্দ্রের আশপাশে ক্যামেরা ও মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার না হলে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঘোষণাও দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার লোভে একটি পক্ষ প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে নির্বাচনী মাঠকে নিজেদের অনুকূলে নিতে চাইছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, দলীয় পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে তার দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে। মোহাম্মদপুর এলাকার সামাজিক সমস্যা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় গেলে মাদক ও অস্ত্রের অবৈধ বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তরুণদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা শেষ গণমিছিলে ভোটারদের সঙ্গে উড়ন্ত চুমুর মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণকালে হাজারের বেশি সমর্থকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই মিছিলটিতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। রুমিন ফারহানা ছিলেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী, তবে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। এ কারণে কেন্দ্রীয় বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, এটি তার শেষ গণমিছিল হিসেবে গণ্য হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের গুরুত্বপূর্ণ শহর সৈয়দপুরে জাতীয় পার্টির উদ্যোগে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাণিজ্যিক ও বাঙালি-বিহারী অধ্যুষিত এই শহরের সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। সভায় আরও বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ উপজেলার দুই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, ৯ জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সৈয়দপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, জাতীয় পার্টির নেতা মিঠু, সুজন মাস্টার, আব্দুর রশীদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। জাতীয় পার্টির সৈয়দপুর পৌর কমিটির সভাপতি আব্দুস শহীদ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে একটি বিশাল মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। জনসভায় বক্তব্যে প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম বলেন, “ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচারে কান না দিয়ে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিয়ে প্রকৃত উন্নয়নের পক্ষে থাকুন।” তিনি বলেন, সৈয়দপুরে রেলওয়ের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেবেন, যাতে স্থানীয় মানুষ বৈধভাবে বন্দোবস্ত পেতে পারেন। তিনি আরও জানান, পিছিয়ে পড়া কিশোরগঞ্জ উপজেলায় হিমাগার নির্মাণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন করে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগানে মাঠ মুখরিত করে তোলেন।