বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড–এর নেতৃত্বে সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিম মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে সুন্দরবন–এর বিভিন্ন খাল ও নদীতে একযোগে অভিযান শুরু করে।
সম্প্রতি ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নারিকেলবাড়ীয়া ও দুবলার শুঁটকি পল্লীসহ বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরার সময় অন্তত ৪৪ জন জেলেকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ধারাবাহিক এসব অপহরণে উপকূলজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম খুলনায় মতবিনিময় সভায় সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, দস্যুদের পুনরুত্থানে জেলেরা বনে যেতে ভয় পাচ্ছেন; এতে ইকো-ট্যুরিজম ও ব্লু-ইকোনমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সব বাহিনীর সমন্বয়ে দ্রুত অভিযানের ঘোষণা দেন তিনি।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, দস্যুদের সম্ভাব্য আস্তানা চিহ্নিত করে নদীপথে টহল জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ট্রলার ও নৌযান তল্লাশি এবং বনজীবী-জেলেদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ চলছে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সুন্দরবনে পরিচালিত অভিযানে ৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫টি হাতবোমা, ৮৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৫০৫ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ৬৯ জন দস্যু আটক এবং তাদের জিম্মিতে থাকা ৫২ জন নারী-পুরুষকে উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চলমান এ সাঁড়াশি অভিযানে বনদস্যুদের তৎপরতা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সুন্দরবনে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত বা ক্লোজড করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগ এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলছিল। এ সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বাদানুবাদ হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই শিক্ষার্থী পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলম জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় দায়িত্বরত চার পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, উদ্যানে অবস্থানকালে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের এমন আচরণের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের স্বতন্ত্র উপ-সভাপতি প্রার্থী শামীম হোসেন নতুন অধ্যাপক হিসেবে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। শামীম তার নিয়োগের খবর নিজের ফেসবুক পোস্টে নিশ্চিত করেন। গত সেপ্টেম্বরের ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৩,৮৮৪ ভোটে পরাজিত হলেও তার অনন্য প্রচার ও প্রতিশ্রুতির কারণে তখনও তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।
রমজান মাসে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছে শেখ জামিল হোটেল। সৈয়দপুর শহরের হানিফ মোড়ে অবস্থিত এই হোটেলে মাত্র ৩০ টাকায় মুরগি বিরিয়ানি বিক্রি করায় প্রতিদিন দুপুর থেকেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রিকশাচালক, দিনমজুর, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বল্পমূল্যে খাবার পেতে ভিড় করছেন। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি এনে দিয়েছে। হোটেলের মালিক জামিল হোসেন (৬২) জানান, রমজান মাসে নিম্নআয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করেই তিনি এ আয়োজন করেছেন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ বিরিয়ানি প্রস্তুত করা হয় এবং মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি চলে। দুপুরের পর থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ক্রেতাদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, “১১ মাস ব্যবসা করি নিজের জন্য, আর এই এক মাস আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। লাভের চিন্তা করি না। বিশ্বাস করি, আল্লাহ অন্যভাবে পূরণ করে দেবেন।” মাত্র ৩০ টাকায় ৪ পিস ব্রয়লার মুরগির মাংসসহ বিরিয়ানি পাওয়া যাওয়ায় ক্রেতাদের সন্তুষ্টিও চোখে পড়ার মতো। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই এ মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। রমজানের পবিত্র মাসে সহমর্মিতা, ত্যাগ ও মানবতার এমন দৃষ্টান্ত সৈয়দপুরবাসীর কাছে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।