পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় চারটি ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮ জন প্রার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। জাতীয় সংগীত শুদ্ধভাবে লিখতে না পারায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়নের পাঁচটি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ৩৮ জন আবেদন করেন। প্রথমে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। পরে মেধা পরীক্ষার অংশ হিসেবে ১৫ মিনিট সময় দিয়ে জাতীয় সংগীত লিখতে বলা হয়। তবে কোনো প্রার্থীই সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে সক্ষম হননি। ফলে কাউকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়নি।

ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সাধারণ জ্ঞান থাকা আবশ্যক। অন্যদিকে, মেধার ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়ায় নিয়োগ কমিটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অনেকে।
নিয়োগ বাছাই কমিটিতে উপস্থিত ছিলেন তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম. আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, “মেধা যাচাইয়ের সময় দেখা গেছে, কোনো প্রার্থী জাতীয় সংগীত সঠিকভাবে লিখতে পারেননি। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান ও দেশপ্রেমের মৌলিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।”
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরবর্তীতে পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে, যা এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। পরবর্তীতে তাদের একই কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে ছেলে মারা যান এবং মাত্র তিন ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন তার মা। মৃতরা হলেন সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের মৃত রুপলালের ছেলে কালু শেখ (৫৫) এবং তার মা ময়না বেগম (৭২)। পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন কালু শেখ। জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শোকে ভেঙে পড়েন মা ময়না বেগম। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে ওই রাতেই তিনিও মারা যান। স্থানীয় ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া বলেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মা-ছেলের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। সকালে জানাজা শেষে তাদের পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী পিঠা মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। সৈয়দপুর ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে বুধবার (১৫ এপ্রিল) মেলার দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে। ‘আমরা একসাথে’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলা চলবে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের এলাকা থেকেও বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী এতে অংশ নিচ্ছেন। মেলায় প্রায় ৭০টি স্টলে দেশীয় ও আধুনিক নানা পণ্যের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পিঠার সমাহার রয়েছে। ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা, দুধচিড়া ছাড়াও কেক, আচার ও হালকা খাবারের স্টলও রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, মেলার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। তারা জানান, পিঠা সংস্কৃতির ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
রাজধানীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে ব্যবসায়ীদের জন্য তালিকাভুক্ত লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) সংলগ্ন ফুটপাত দখলমুক্ত করে নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নগর ব্যবস্থাপনায় নাগরিক ও সিটি কর্পোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ফুটপাতে ব্যবসা করতে হলে এখন থেকে অনুমোদন ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে হবে। একই সঙ্গে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ও গাইডলাইন নির্ধারণ করা হবে, যাতে অবৈধ দখল ও অগোছালো বাজার ব্যবস্থা বন্ধ করা যায়। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, ফুটপাত দখলমুক্ত উদ্যোগ টেকসই করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে জরিপ কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি নাগরিকদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রাস্তায় বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে, নইলে নগর ব্যবস্থাপনা টেকসই করা সম্ভব নয়।