পঞ্চগড়ে বন্ধ হয়ে থাকা ‘উত্তরা গ্রীণ টি’ নামে একটি চা কারখানা পুনরায় চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষুদ্র চা চাষী ও শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ চা বোর্ড-এর পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সদর উপজেলার কেচারাপাড়া এলাকায় অবস্থিত কারখানাটি ২০২০ সালের শুরুতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে এবং দীর্ঘদিন ধরে চাষীদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে কাঁচা চা পাতা ক্রয় করছিল। তবে নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২০২৫ সালের নভেম্বরের দিকে কারখানাটির মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় চা বোর্ড। এতে সহস্রাধিক চা চাষী আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

চাষীদের দাবি, সমতলের চা জাতীয় উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কারখানাটি বন্ধ থাকলে চলতি মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং চাষীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। পাশাপাশি কারখানা বন্ধ থাকলে মধ্যস্বত্বভোগী চক্র সক্রিয় হয়ে দামে ও ওজনে কাটতির মতো অনিয়ম বাড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, কারখানার কাগজপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হোক। আগামী ১ মার্চ থেকে নতুন মৌসুমে যাতে কারখানাটি চা পাতা ক্রয় শুরু করতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
পরে চাষীরা চা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপি গ্রহণ করে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ফার্ম সুপারভাইজার মেহেদী হাসান।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে জটিলতা থাকায় কারখানাটির মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে জরিমানা আরোপ সাপেক্ষে কারখানাটি চালুর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে, যা এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। পরবর্তীতে তাদের একই কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে ছেলে মারা যান এবং মাত্র তিন ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন তার মা। মৃতরা হলেন সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের মৃত রুপলালের ছেলে কালু শেখ (৫৫) এবং তার মা ময়না বেগম (৭২)। পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন কালু শেখ। জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শোকে ভেঙে পড়েন মা ময়না বেগম। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে ওই রাতেই তিনিও মারা যান। স্থানীয় ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া বলেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মা-ছেলের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। সকালে জানাজা শেষে তাদের পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী পিঠা মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। সৈয়দপুর ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে বুধবার (১৫ এপ্রিল) মেলার দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে। ‘আমরা একসাথে’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলা চলবে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের এলাকা থেকেও বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী এতে অংশ নিচ্ছেন। মেলায় প্রায় ৭০টি স্টলে দেশীয় ও আধুনিক নানা পণ্যের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পিঠার সমাহার রয়েছে। ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা, দুধচিড়া ছাড়াও কেক, আচার ও হালকা খাবারের স্টলও রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, মেলার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। তারা জানান, পিঠা সংস্কৃতির ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
রাজধানীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে ব্যবসায়ীদের জন্য তালিকাভুক্ত লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) সংলগ্ন ফুটপাত দখলমুক্ত করে নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নগর ব্যবস্থাপনায় নাগরিক ও সিটি কর্পোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ফুটপাতে ব্যবসা করতে হলে এখন থেকে অনুমোদন ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে হবে। একই সঙ্গে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ও গাইডলাইন নির্ধারণ করা হবে, যাতে অবৈধ দখল ও অগোছালো বাজার ব্যবস্থা বন্ধ করা যায়। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, ফুটপাত দখলমুক্ত উদ্যোগ টেকসই করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে জরিপ কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি নাগরিকদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রাস্তায় বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে, নইলে নগর ব্যবস্থাপনা টেকসই করা সম্ভব নয়।