অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বহুসংস্কৃতির অংশগ্রহণের আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে সিডনিতে আয়োজিত ‘ষষ্ঠ বার্ষিক লিবারেল পার্টি ইফতার ডিনার’-এ।
লিবারাল পার্টি অব অস্ট্রেলিয়া আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় Le Montage Event Centre-এ। এতে দলটির ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ধর্মীয় আচার, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ও রাজনৈতিক সৌজন্যে অনুষ্ঠানটি বহুজাতিক অস্ট্রেলীয় সমাজের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।

উপল আমিনের উপস্থাপনায় এবং সায়ান জামানের কুরআন তিলাওয়াত ও আজানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির অতিথিদের অংশগ্রহণে ইফতারটি পরিণত হয় আন্তঃসম্প্রদায়িক সংলাপের মঞ্চে।
লিবারেল পার্টির লাকেম্বা শাখা ও ব্যাংকসটাউন এসইসির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহে জামান টিটুর উদ্যোগে আয়োজিত এ ইফতার ২০২১ সালে সীমিত পরিসরে শুরু হলেও বর্তমানে দলটির ভেতরে মুসলিম সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

এ বছর অনুষ্ঠানে এমপি, এমএলসি, সিনেটর, মেয়র ও কাউন্সিলরদের পাশাপাশি পেশাজীবী, চিকিৎসক, কমিউনিটি প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, এ আয়োজন শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং অস্ট্রেলিয়ার সমাজ ও রাজনীতিতে মুসলিম ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর চলমান উত্তেজনার কারণে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে অন্তত ২০ হাজার নাবিক এবং ১৫ হাজার যাত্রী চরম মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইরান প্রণালীকে কার্যত বন্ধ রেখেছে, কোনো অনুমতি ছাড়া চলাচল করা জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ থেকে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় জ্বালানি ও এলএনজি মূল্যস্ফীতি বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।
ইরানের রাজনৈতিক উচ্চপদস্থ নেতা মোহাম্মদ মোখবার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা চালাতে আগ্রহী নয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ওয়াশিংটনের প্রতি আমাদের কোনো আস্থা নেই, আর তাদের সঙ্গে আলোচনা চালানোর কোনো ভিত্তি নেই।” ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনরত মোখবার আরও জানান, তেহরান প্রয়োজনে ‘যতদিন দরকার’ চলমান সংঘাতের মধ্যেই অবস্থান বজায় রাখতে প্রস্তুত। তাঁর মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরান কোনো আংশিক সমঝোতা বা আলোচনার পথ গ্রহণ করবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, মোখবারের এই অবস্থান মার্কিন নেতৃত্বাধীন প্রতিক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার দিকে ইঙ্গিত করছে এবং ইরানের কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও সামরিক প্রস্তুতি আরও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকে নির্দেশিত হতে পারে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ঘোষণা করেছে যে বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত নৌপথ, হরমুজ প্রণালি, এখন সম্পূর্ণভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নৌবাহিনী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে এবং যেকোনো চলাচলরত জাহাজ এখন ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আইআরজিসির নৌ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকবরজাদেহ সতর্ক করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে যেকোনো তেলবাহী জাহাজ চলাচল করলে তা সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারে। এ ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। এর ঠিক এক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচলরত তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে সুরক্ষার জন্য মার্কিন নৌবাহিনী এসকর্ট দিতে প্রস্তুত। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই তাদের কূটনৈতিক কর্মীদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। সৌদি আরব, ওমান এবং সাইপ্রাসে অবস্থানরত দূতাবাসের কর্মকর্তা ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা কারণে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও নৌ-পরিবহনকে মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।