দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয়েশিয়া-এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তিনটি মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনি প্রাণ হারান বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে জোহর রাজ্যের পাসির গুদাং এলাকায় মাসাই–কংকং সড়কে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত লেনে প্রবেশ করেন এবং একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের পর তিনি সড়কে পড়ে গেলে পেছন থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেল তাকে চাপা দেয়, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটিকে মালয়েশিয়ার সড়ক পরিবহন আইন ১৯৮৭-এর আওতায় তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ বলেছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘিরে কৌশলগত উপস্থিতি জোরদারে নতুন করে নৌ-সামরিক শক্তি প্রদর্শনে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’-কে লোহিত সাগরে পুনরায় মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা সূত্র। পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে যাত্রা করে রণতরিটি সুয়েজ খাল অতিক্রম করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এর সঙ্গে রয়েছে সশস্ত্র ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস মাহান’ এবং ‘ইউএসএস উইনস্টন এস চার্চিল’, যা সম্মিলিতভাবে একটি শক্তিশালী ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ গঠন করেছে। এর আগে রক্ষণাবেক্ষণ ও অগ্নিকাণ্ডজনিত ক্ষয়ক্ষতির কারণে কিছু সময়ের জন্য মেরামতে থাকলেও এখন পূর্ণ সক্ষমতায় পুনরায় অপারেশনাল অবস্থায় ফিরেছে রণতরিটি। বর্তমানে অঞ্চলে ইতোমধ্যে সক্রিয় রয়েছে আরেকটি মার্কিন রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’, আর তৃতীয় ক্যারিয়ার ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ ও অগ্রসরমান। ফলে অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধমূলক সক্ষমতা জোরদার করতেই যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের শক্তি প্রদর্শনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে একটি চূড়ান্ত চুক্তি প্রায় সম্পন্নের পথে রয়েছে, যদিও এর শর্তাবলি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন ইরানের কোনো স্থগিত (ফ্রোজেন) অর্থ মুক্ত করা হবে না, যা সম্ভাব্য চুক্তির আর্থিক দিক নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পৃথক বার্তায় ট্রাম্প উল্লেখ করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বহাল থাকবে এবং তা চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হবে না। উল্লেখযোগ্য যে, ইরানের পক্ষ থেকেও সীমিত শর্তে সামুদ্রিক পথ উন্মুক্ত করার ইঙ্গিত এসেছে। তবে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও পারস্পরিক বাধ্যবাধকতা এখনও চূড়ান্ত হয়নি, ফলে পরিস্থিতি আইনগত ও কূটনৈতিকভাবে অনির্ধারিত অবস্থায় রয়েছে।
হাঙ্গেরির রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও গণমাধ্যম ব্যবস্থায় সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগয়ার। তিসা পার্টির নেতৃত্বে নির্বাচনে বিপুল জয় পাওয়ার পর তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা ভিক্টর অরবানের শাসনের অবসান ঘটান। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সংবাদ সম্প্রচার সাময়িকভাবে স্থগিত করার ইঙ্গিত দেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে মাগয়ার উপস্থাপকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন এবং তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগ আনেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে তিনি বিষয়টিকে ‘প্রচারযন্ত্রের অবসানের সূচনা’ হিসেবে মন্তব্য করেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সংস্কার, নতুন মিডিয়া আইন প্রণয়ন এবং স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কাঠামো গঠনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং একাডেমিক ও গণমাধ্যম স্বাধীনতা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রপতি তামাস সুলিয়কের পদত্যাগও দাবি করেছেন, দাবি করে বলেন যে তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, আইনের শাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ না হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ১৬ বিলিয়ন ইউরো পুনরুদ্ধার তহবিল এখনো স্থগিত রয়েছে। এই অর্থ ছাড় নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে নতুন সরকার ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।