অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে—বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি। দেশটির জিলং-এর কোরিও এলাকায় অবস্থিত ভিভা এনার্জি পরিচালিত একটি তেল শোধনাগারে এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলতে থাকে, যা পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনাস্থলে কর্মরত সকল ব্যক্তিকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
উক্ত শোধনাগারটি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রায় অর্ধেক এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রায় ১০ শতাংশ জ্বালানি উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায়, এর কার্যক্রম আংশিকভাবে ব্যাহত হওয়াকে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ইতোমধ্যেই চাপে রয়েছে—এই প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি উদ্বেগজনক। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো নিরূপণাধীন রয়েছে এবং সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে।
অন্যদিকে, কোম্পানির প্রধান নির্বাহী স্কট ওয়ায়াট জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে দুটি পেট্রোল উৎপাদন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও অন্যান্য ইউনিট কার্যকর রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে পেট্রোল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের উৎপাদন সীমিত রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে যান্ত্রিক ত্রুটিকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
হাঙ্গেরির রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও গণমাধ্যম ব্যবস্থায় সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগয়ার। তিসা পার্টির নেতৃত্বে নির্বাচনে বিপুল জয় পাওয়ার পর তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা ভিক্টর অরবানের শাসনের অবসান ঘটান। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সংবাদ সম্প্রচার সাময়িকভাবে স্থগিত করার ইঙ্গিত দেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে মাগয়ার উপস্থাপকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন এবং তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগ আনেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে তিনি বিষয়টিকে ‘প্রচারযন্ত্রের অবসানের সূচনা’ হিসেবে মন্তব্য করেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সংস্কার, নতুন মিডিয়া আইন প্রণয়ন এবং স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কাঠামো গঠনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং একাডেমিক ও গণমাধ্যম স্বাধীনতা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রপতি তামাস সুলিয়কের পদত্যাগও দাবি করেছেন, দাবি করে বলেন যে তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, আইনের শাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ না হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ১৬ বিলিয়ন ইউরো পুনরুদ্ধার তহবিল এখনো স্থগিত রয়েছে। এই অর্থ ছাড় নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে নতুন সরকার ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
ইরানের ইউরেনিয়াম কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে বাস্তবসম্মত ও সংযত অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করে কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার তাগিদ দেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চীন সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ল্যাভরভ বলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) কখনও নিশ্চিত করেনি যে ইরান সামরিক উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। এ অবস্থায় ওয়াশিংটনের উচিত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নীতিগত অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করা। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধানের পথে অগ্রসর হতে চায়, তবে রাশিয়া সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। আইএইএ সূত্র অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যার সমৃদ্ধতার মাত্রা প্রায় ৬০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধতায় পৌঁছালে তা পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণে ব্যবহৃত হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে, যদিও তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
হরমুজ প্রণালি-এ যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর নৌ-অবরোধের চাপের মুখে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত তেলবাহী জাহাজ ‘রিচ স্টারি’ পুনরায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে শিপিং সূত্রে জানা গেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মঙ্গলবার পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও বুধবার জাহাজটি আবার হরমুজ প্রণালিতে ফিরে আসে। এর আগে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ওয়াশিংটন এই নৌ-অবরোধ কার্যকর করে। যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, অবরোধ শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো বাণিজ্যিক জাহাজই মার্কিন নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করতে পারেনি এবং কয়েকটি জাহাজকে বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। শিপিং ডেটা অনুযায়ী, চীনা মালিকানাধীন ‘রিচ স্টারি’ জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মিথানল বহন করে রওনা হয়েছিল এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকায় এটি বাধার মুখে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে চলমান এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, নৌ-বাণিজ্য ও বিমা খাতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে এবং বৈশ্বিক বাজারে এর প্রভাব দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।