মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের গুঞ্জনের মধ্যেই কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থলযুদ্ধে নামে তবে তা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সম্ভাব্য স্থল আক্রমণ নিয়ে তেহরান কোনো উদ্বেগে নেই; বরং ইরান এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রয়েছে। তার ভাষায়, মার্কিন স্থলবাহিনীর যেকোনো পদক্ষেপের জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে ইরানি বাহিনী।
সাক্ষাৎকারে আরাঘচি আরও জানান, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ইরান যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। অতীত অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সংঘাতেও তেহরান থেকে কোনো যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি; বরং প্রতিপক্ষই শেষ পর্যন্ত এমন প্রস্তাব দিতে বাধ্য হয়েছিল।
এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ অভিযানের মাধ্যমে এতে যোগ দেয়।
আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, টানা সামরিক হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতেও তেহরান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলবাহী জাহাজ এম/টি টিফানিতে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পেন্টাগন জানায়, ইরানকে উপকরণগত সহায়তা প্রদানকারী নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজ ও অবৈধ নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এ অভিযান তারই অংশ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত যেকোনো জাহাজ বা নেটওয়ার্ক বিশ্বের যেকোনো জলসীমায় শনাক্ত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগরসহ সংবেদনশীল সামুদ্রিক রুটে একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্য-সম্পর্কিত সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো অধরাই রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও মৌলিক বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো নিষ্পত্তিহীন রয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের প্রতি আস্থাহীনতার কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। ইরানি স্পিকারের দাবি, সামরিক ক্ষেত্রে ইরান কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের দাবি আংশিকভাবে মেনে নেওয়ার প্রেক্ষিতেই সীমিত সময়ের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় পুনরায় সংঘাত শুরু করতে পারে—এমন আশঙ্কায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার না হলে এ জলপথে জাহাজ চলাচল সীমিত বা বন্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার ধারা অব্যাহত থাকলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা পরবর্তী বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি; ফলে পরিস্থিতি অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয়েশিয়া-এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তিনটি মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনি প্রাণ হারান বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে জোহর রাজ্যের পাসির গুদাং এলাকায় মাসাই–কংকং সড়কে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত লেনে প্রবেশ করেন এবং একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের পর তিনি সড়কে পড়ে গেলে পেছন থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেল তাকে চাপা দেয়, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটিকে মালয়েশিয়ার সড়ক পরিবহন আইন ১৯৮৭-এর আওতায় তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ বলেছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।