রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘিরে সৃষ্ট তীব্র যানজট নিরসনে কার্যকর ও টেকসই বিকল্প ব্যবস্থা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন বলে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, স্কুল চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতকে কেন্দ্র করে সড়কে অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনদুর্ভোগ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোতেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে ব্যক্তিগত গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত ভিড় কমাতে দ্রুত একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে।
আলোচনায় উঠে আসে, রাজধানীর কিছু স্কুলে স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ির উপস্থিতি সড়কব্যবস্থাকে অচল করে দিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণ করে আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও আইনসম্মত যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পানিসম্পদ খাতে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকারি অর্থের অপব্যবহার বা লুটপাটের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না এবং এ ধরনের কোনো অনিয়ম শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জন্য কতটুকু কার্যকর সুফল নিশ্চিত করা যায়—সেই জবাবদিহিতার দিকে এখন পুরো জাতির দৃষ্টি রয়েছে। মন্ত্রী নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা, পানি সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এ খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। খাল খনন কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হচ্ছে এবং আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে যথাযথ খাল নির্বাচন, কারিগরি দক্ষতা এবং সমন্বয়ের অভাব থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দক্ষ জনবল নিয়োগ ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা হলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে এ খাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।
জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কঠোর বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলনকারী ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর যারা সশস্ত্র হামলায় জড়িত ছিল, তারা যে পরিচয় বা বাহিনীর পোশাকেই থাকুক না কেন—আইনের দৃষ্টিতে সবাই অপরাধী। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদে বিভিন্ন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং কিছু মামলায় তদন্ত ও অভিযোগপত্র দাখিলের কাজ চলমান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ সংশ্লিষ্ট আদালতে বিচারিক কার্যক্রম চলছে এবং সরকার এতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রদানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যা সংসদে আইন হিসেবে পাসের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এছাড়া অতীতের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও গায়েবি মামলাগুলো পুনর্বিবেচনার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত বিধান অনুযায়ী মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘মব কালচার’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে কোনো ধরনের গণপিটুনি বা বিশৃঙ্খল জনতাভিত্তিক সহিংসতা সহ্য করা হবে না। জনস্বার্থে দাবি-দাওয়া জানাতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি মহাসড়ক অবরোধসহ বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন। পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশ্নে তিনি স্বীকার করেন, প্রয়োজনীয় বাজেট ও সম্পদের ঘাটতি রয়েছে। তবে দুর্নীতিমুক্ত ও পেশাদার পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মন্ডল হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। সোমবার (৩০ মার্চ) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ শুনানি শেষে এ আদেশ প্রদান করেন। বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগারে আটক আইভীকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সামাদ। এর ফলে মোট ১১টি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এর আগে একাধিক মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও কিছু মামলার জামিন আদেশ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে স্থগিত রয়েছে এবং তা আপিল বিভাগের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় সেলিম মন্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। আইভীর পক্ষে আইনজীবী দাবি করেছেন, মামলার এজাহারে তাঁর নাম উল্লেখ না থাকলেও দীর্ঘ সময় পর তাঁকে আসামি করা হয়েছে, যা আইনি হয়রানির শামিল। তবে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।