নীলফামারীর সৈয়দপুরে মশার উৎপাত জনজীবনকে চরম বিপাকে ফেলেছে। শুধু রাত নয়, দিনের বেলাও মশার উৎপাত সমানে চলতে থাকে। কয়েল, অ্যারোসল স্প্রে এবং অন্যান্য মশক নিধন উপকরণ ব্যবহার করেও সাধারণ মানুষ মশার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না। এতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত, তবুও স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর পৌরসভা ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত, যেখানে ১৫টি ওয়ার্ড রয়েছে এবং পৌরসভার মোট আয়তন ৩৪.৪২ বর্গকিলোমিটার। এখানে প্রায় দেড় শত কিলোমিটার ড্রেন রয়েছে। কিন্তু শহরের বাঁশবাড়ী, হাতিখানা, মুন্সিপাড়া, ইসলাবাগ, রসুলপুর গোয়ালপাড়া, নয়াটোলা, বাঙ্গালীপুর নিজপাড়া, কয়াগোলাহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকায় মশার বংশবিস্তার বেড়েছে।

শহরের গোলাহাট কবরস্থান রোডে ড্রেনের পানি উপচে সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা কয়েক ঘন্টা সড়ক অবরোধ করেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের আশ্বাস দিলে অবরোধ উঠানো হয়। কিন্তু শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কে স্বাধীনতা ভবনের কাছে ড্রেন থেকে পানি পড়ায় চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মশার উপদ্রবের কারণে ঘরে বসে শিক্ষা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন কাজকর্মও প্রভাবিত হচ্ছে। মুন্সিপাড়া এলাকার গৃহবধূ মিসেস রুমি বেগম বলেন, ২৪ ঘণ্টাই কয়েল জ্বালাতে হচ্ছে, যা বাড়তি অর্থের চাপ সৃষ্টি করছে। বাঙ্গালীপুর নিজপাড়া এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাবা তাবাচ্ছুম ত্রপা জানান, মশার কারণে রাতে পড়াশোনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরাও মশার উৎপাতের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারছেন না। রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনালে রাত কাটানো হতদরিদ্র মানুষদেরও মশার অত্যাচার থেকে রক্ষা করার সামর্থ্য নেই।
এছাড়া, মশা নিধনের উপকরণের বাজারমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ক্রয় করতে পারছে না। গত ২৯ মার্চ মশা তাড়ানোর কয়েলের আগুনে নিয়ামতপুর ভজেপাড়ায় ছয়টি পরিবারের সম্পূর্ণ বসতিপত্র পুড়ে গেছে।
সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম মশার উৎপাত স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “বড় আকৃতির মশা বিকেলে অফিসে ঢুকে স্বাভাবিক কাজকর্ম করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।” তিনি দাবি করেছেন, পৌরসভা এলাকায় নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম চলছে, তবে সমস্যার প্রকৃতি সামলাতে সব সময় কার্যকর ব্যবস্থা সম্ভব হয় না।
সৈয়দপুরবাসী এখন চাইছেন, স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণে আনুক, নইলে জনজীবন আরও বিপর্যস্ত হতে পারে।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া আউলিয়াঘাট এলাকায় রবিবার (৫ মার্চ) দুপুরে করতোয়া নদীতে গোসল করতে নেমে এক যুবক তলিয়ে যান। দীর্ঘ ৫ ঘন্টা চেষ্টা ও উদ্ধার অভিযান শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নদী থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবক বদেশ্বরী গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে সজীব। স্থানীয় সূত্র জানায়, সজীবসহ চারজন যুবক দুপুরে নদীতে গোসলের উদ্দেশ্যে নেমে। সাঁতার না জানা সজীব গভীর পানিতে তলিয়ে গেলে অপরদের মধ্যে দুইজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। প্রাথমিক উদ্ধার কার্যক্রমে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা ৪ ঘন্টা তল্লাশি চালালেও সফল হননি। পরে রংপুর থেকে আসা ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎপরতা চালিয়ে নদী তলদেশ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, নদীতে বালু উত্তোলনের কারণে খরার মৌসুমেও ৩০-৪০ ফুট গভীর চোরার বালি গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। এ ধরনের গর্তের কারণে নদীতে গোসলের সময় বিপদজনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা সজীবের মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরে ৩ জন ও পঞ্চগড়ে ৪ জন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী জানান, গত ৩০ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৯৩ জন হামের উপসর্গে শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং ৩০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় সংঘটিত প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শনিবার এ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। ঘোষণা অনুযায়ী, নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা এবং আহত ও চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হবে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীনদের খোঁজখবর নেন এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন ও দায় নিরূপণে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা জেলা প্রশাসনকেও পৃথক তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় সরকার আইনি কাঠামোর আওতায় কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে এবং অবহেলার কারণে কোনো প্রাণহানি সহ্য করা হবে না।