নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উপজেলার সদর, বড়ভিটা ও মাগুড়া ইউনিয়নে বহু ঘরের চালা উড়ে যায় এবং গাছপালা উপড়ে পড়ে। গাছ ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় দুরাকুটি, গদাসহ কয়েকটি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
ঝড়ে কৃষিখাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্তত ৩৫ হেক্টর ভুট্টা খেতসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
মাগুড়া ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মিঠু জানান, তার ইউনিয়নেই প্রায় ৩০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লতিফুর রহমান জানান, তিনটি ইউনিয়নে অন্তত ৭০টি ঘরবাড়ির ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।
নেসকোর কিশোরগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী আরেফিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
নরসিংদীতে ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা বেগমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে কয়েকশ’ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ কর্মসূচি পালন করেন। পরে মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের কারারদি মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জমি বিক্রি বা ব্যাংক ঋণ নিতে না পারায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছেন। তাদের দাবি, ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও কমিশন দাবির অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এছাড়া অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বাতিলের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগও করেন তারা। বিক্ষোভকারীরা এডিসি মাহমুদা বেগমের অপসারণ দাবি করে স্লোগান দেন এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। মানববন্ধনে নেতৃত্বদানকারী পুটিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসী জানায় এডিসি মাহমুদা বেগম তাদেরকে অনেক যন্ত্রণা দিয়েছে। এই যন্থ্রণার জেরই আজকের এই অবস্থা। পরে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং তাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহমুদা বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রশাসনের সদ্য বিদায়ী একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, মাহমুদার অপকর্মের জন্য ইতোপূর্বে দুইজন জেলা প্রশাসককে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। সে জেলা প্রশাসকের কাছে সকল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কানভারী করে নিজেকে ভালো রেখে বীরদর্পে দুর্নীতি ও নানা অনিয়ম করে বেড়াচ্ছে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে নীলফামারীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নীলফামারী সরকারি কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকবৃন্দও সংহতি প্রকাশ করেন। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলাম মিরাত। বক্তব্য দেন নাজমুল ইসলাম কাজল, ইমদাদুল হক মিলন এবং প্রভাষক সোলায়মান আলীসহ অনেকে। বক্তারা কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদরাসার শিক্ষক খাইরুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তারা বলেন, একজন শিক্ষক কর্মস্থলে নিরাপদ না থাকলে তা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। শিক্ষক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সকল শিক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের থানারহাট মডেল মাদরাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়। মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান সবুজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আনোয়ারুল হক। সহকারী শিক্ষক আবদুল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, সাবেক ছাত্রনেতা ও বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা পরীক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা করেন এবং তাদের নৈতিক ও শিক্ষাগত উন্নতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠান শেষে দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।