সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণের ঘটনার পর কুখ্যাত বনদস্যু মাসুম বাহিনীর প্রধান মাসুম মৃধা ও তার এক সহযোগীকে কোস্ট গার্ড আটক করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, মাদক সেবনের সরঞ্জাম এবং অপহৃত পর্যটকদের মোবাইল ও হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান জানিয়েছেন, ২ জানুয়ারি গোলকানন রিসোর্টের পর্যটকরা সুন্দরবনের কানুরখাল এলাকায় ভ্রমণের সময় মুক্তিপণের দাবীতে দুই পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে অপহরণ করে। ৪৮ ঘণ্টার যৌথ অভিযান শেষে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোট ৭ জনকে সুন্দরবন, দাকোপ ও খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়।

আটককৃতদের তথ্য অনুযায়ী ৭ জানুয়ারি খুলনার তেরোখাদা উপজেলার ধানখালী এলাকা থেকে মাসুম মৃধা ও সহযোগীকে আটক করা হয়। পরে সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে অস্ত্র ও অপহৃতদের মালামাল উদ্ধার করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার বলেন, গত এক বছরে সুন্দরবনে ডাকাত ও জলদস্যু দমনের অভিযানে ৪৯ জন সক্রিয় ডাকাত আটক, ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি হাতবোমা এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নারীসহ ৫২ জনকে মুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, সুন্দরবনের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনবল বৃদ্ধি, নতুন স্টেশন, স্পিডবোট সংযোজন এবং আধুনিক ড্রোন নজরদারি প্রয়োজন।
কোস্ট গার্ড বন বিভাগের সমন্বয়ে পর্যটনবান্ধব নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান চালিয়ে যাবে।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে কৃষি জমিতে ড্রিল ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের দায়ে দেবাশীষ মন্ডলকে ভ্রাম্যমান আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। জিউধরা ইউনিয়নের লক্ষীখালী গ্রামে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ সরকারের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এই মামলায় দেবাশীষকে বালু মহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এর ৫(১) সংশোধন ১৫(১) ধারা অনুযায়ী জরিমানা করা হয়। উপজেলা প্রশাসক অতীশ সরকার বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে কৃষি জমি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফসলী জমি নষ্ট হওয়ার ফলে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। জনস্বার্থে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পৈত্রিক নিবাস ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর মজুমদার বাড়িতে কুলখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফেনী-১ (পরশুরাম-ফুলগাজী-ছাগলনাইয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী রফিকুল আলম মজনুর উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন। অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে শিশুশ্রম নিরসনে একটি বিভাগীয় কর্মশালা বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজশাহীর ন্যাশনাল অকুপেশনাল হেলথ অ্যান্ড সেফটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রম পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) মহাপরিদর্শক ওমর মো. ইমরুল মহসিন সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। তিনি বলেন, “শিশুশ্রম শুধুমাত্র শ্রম আইন লঙ্ঘন নয়, এটি একটি সামাজিক অপরাধ। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।” বিশেষ অতিথি রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. এ.এন.এম. বজলুর রশীদ বলেন, “শিশুশ্রম নির্মূলে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। শিশুরা শিক্ষায় ফিরলে সমাজ ও রাষ্ট্র দুটোই উপকৃত হবে।” প্রধান অতিথি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানওয়ার জাহান ভূইয়া শিশুশ্রম নিরসনের বিষয়ে বলেন, “শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সরকারের অঙ্গীকার। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম সম্পূর্ণভাবে নির্মূল এবং অন্যান্য খাতে শিশুশ্রম ধীরে ধীরে বন্ধ করতে কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।” কর্মশালায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান পুলিশি ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, “শিশুশ্রমের সঙ্গে মানবপাচার, মাদক ও অপরাধ জড়িত থাকার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে শিশুদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।” রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. ফখরুল ইসলাম বলেন, দারিদ্র্য, অভিভাবকদের অজ্ঞতা ও শিক্ষার অভাব শিশুশ্রম বৃদ্ধির মূল কারণ। তিনি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দাবি করেন। আইএলও বাংলাদেশের জাতীয় পরামর্শক হালিমা আক্তার জাতীয় প্রেক্ষাপটে শিশুশ্রম পরিস্থিতি এবং আইএলও’র সহায়তা তুলে ধরেন। এছাড়া ইউসেপ বাংলাদেশ আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. শাহিনুল ইসলাম শিশুশ্রম নিরসন ও কর্মসংস্থানে সংস্থার ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন। কর্মশালায় ভবিষ্যৎ করণীয় ও সমন্বিত উদ্যোগ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিবগণ, ডিআইএফই-এর বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি অংশ নেন। কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান ও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, কর্মশালাটি “টিম ইউরোপ ইনিশিয়েটিভ অন ডিসেন্ট ওয়ার্ক ইন বাংলাদেশ” প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহ-অর্থায়নে এবং ডেনমার্ক ও সুইডেন দূতাবাসের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হয়েছে।