দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মো. শাহজাহান মিয়া সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে ১১ জন ইউপি সদস্যসহ বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। অনুষ্ঠানটি সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপি কোষাধ্যক্ষ এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
নব্য বিএনপি সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের ২ থেকে ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বারসহ মহিলা মেম্বার সাজেদা, সেলিনা আক্তার ও গোলেছা বেগম। যোগদানকারীরা পূর্বে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে ছিলেন।
চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া জানান, মূলত ব্যক্তিগত অবস্থান ও স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এখন সুযোগ অনুযায়ী আবার বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
দলীয় সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে নির্বাচনী তৎপরতা চালানোর অভিযোগে শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, শেরপুর-১ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার বিপরীতে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন, যা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী। শেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জানান, বহিষ্কারের চিঠি কেন্দ্র থেকে পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি দলীয়ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ অতীতে জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি ছিলেন এবং সর্বশেষ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ও নির্বাচন বিশ্লেষক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, নির্বাচনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, এখন তা কতটা নিরাপদ হবে তা নির্ভর করছে রাজনীতিবিদদের আচরণের ওপর। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বরিশালে সুজন আয়োজিত বিভাগীয় সংলাপ শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, “নির্বাচনি ট্রেন ট্র্যাকে উঠে গেছে। শঙ্কা থাকলেও সেটি ট্র্যাকচ্যুত করতে পারেন রাজনীতিবিদ ও তাঁদের মনোনীত প্রার্থীরাই। সদাচরণ নিশ্চিত হলে বড় কোনো ঝুঁকি থাকবে না।” ড. বদিউল আলম আরও বলেন, “রাজনীতিবিদরা যদি উত্তেজনা কমান, সহিংসতায় না জড়ান এবং এমপি হওয়ার জন্য অপকৌশল পরিহার করেন, তাহলে নির্বাচন সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।” সংলাপে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতারা অংশ নেন এবং নির্বাচনকালীন আচরণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে মতামত দেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে তলব হলেও শেষ পর্যন্ত অভিযোগমুক্ত হলেন যশোর-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি অভিযোগের কোনো ভিত্তি না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন। রোববার (১১ জানুয়ারি) যশোর-৩ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ মো. মাসুদ রানার আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত লিখিত ও মৌখিকভাবে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার ব্যাখ্যায় সন্তোষ প্রকাশ করে অভিযোগ খারিজের আদেশ দেন। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের আইনজীবী দেবাশীষ দাস জানান, আদালত বিষয়টি পর্যালোচনা করে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। শুনানিকালে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুরসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, আদালত অভিযোগ খারিজের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আগে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দাবি করেন, অভিযোগে উল্লেখিত কর্মসূচিগুলো তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে নয়, সেগুলো যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।