জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল-২০২৬’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালের সংকটকালীন সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল, তার প্রকৃত মূল্যায়ন একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন। তিনি মন্তব্য করেন, মানবিক সাক্ষ্য আংশিক হলেও চূড়ান্ত বিচার সর্বজ্ঞ সত্তার কাছেই ন্যস্ত।
বক্তব্যে তিনি বিদ্যমান আইনে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ সংজ্ঞার কাঠামো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলসমূহের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি পরিহার করার প্রস্তাব দেন, যা তার মতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিভাজনকে উসকে দিতে পারে।
বর্তমান আইনি সংজ্ঞায় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী শক্তির বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারীদের ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে কিছু রাজনৈতিক দলের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে শফিকুর রহমান যুক্তি দেন, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ভাষ্য নিরপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন, যাতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ থাকে।
তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জাতি তাদের আত্মত্যাগ চিরকাল কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
এদিকে, স্পিকার জানিয়েছেন, উক্ত বিলের বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) লিখিত মতামত প্রদান করেছে এবং তারা এতে কোনো আপত্তি উত্থাপন করেনি।
শেরপুর-৩ আসনের শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছেন। ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রুবেল তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলহাজ মাসুদুর রহমান মাসুদকে প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে জানান, ১২৮টি কেন্দ্রে গণনার ফলাফলে রুবেল ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট পেয়েছেন, আর মাসুদের ভোট ৪৭ হাজার ৫১। ভোটগ্রহণ সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। মোট ভোটারের মধ্যে ৫০.৫২ শতাংশ অংশগ্রহণ করেছেন। কিছু কেন্দ্রে অভিযোগে জড়িতদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিয়েছে।
জ্বালানি সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-র ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারি মন্ত্রীরা যেন দেশের অর্থনীতি তেলের ওপর ভাসছে এমন প্রভাব তৈরি করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পাম্পে দীর্ঘ লাইন থাকা সত্ত্বেও সরকার রিজার্ভ বেশি থাকার প্রমাণ দেখিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রশ্ন তুললেও নোটিশ আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান সংসদের গঠনকে প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে বলেন, যারা সংসদে বসেছেন, তাদের অধিকাংশই অতীতের অন্যায় ও নির্যাতনের শিকার। তিনি সতর্ক করে বলেন, ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে তরুণ প্রজন্ম ও জামায়াত ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি ২৪-এর আন্দোলনের লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, বর্তমান প্রজন্ম কেবল ব্যক্তিগত পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার মূল পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করেছে। বিগত নির্বাচনে জনগণের সমর্থন ‘হাইজ্যাক’ বা ‘ডাকাতি’ করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন। ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নে জামায়াত রাজপথে ফিরবে এবং ইনসাফ নিশ্চিত করবে। দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যারা নিজের দলের মধ্যে গণতন্ত্র ও ইনসাফ রক্ষা করতে ব্যর্থ, তারা ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষা করতে পারবে না। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সংসদে থাকা ৭৭ জন সদস্য জনগণের অধিকার রক্ষায় সতর্ক থাকবে। আলোচনা সভায় জাগপা-র মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ডা. শফিকুর রহমান দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের পুনরাগমন রোধ করা হবে।
দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি ঘাটতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন পাম্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং তেল সংগ্রহে সড়কে দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাস্তব পরিস্থিতি কি সরকার দেখতে পাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর উদ্দেশে করা সম্পূরক প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে অবনতির দিকে যাচ্ছে। জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে কোনো প্রকৃত জ্বালানি সংকট নেই। প্রতিটি পাম্পে দৈনিক প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অল্প সময়েই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে, যা ‘প্যানিক বায়িং’-এর ফল। সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার দাবি করা হলেও, মাঠপর্যায়ে ভোক্তাদের ভোগান্তি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।