পঞ্চগড়-২ আসনের বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের পুরোহিত, সভাপতি ও সম্পাদকদের যৌথ উদ্যোগে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বোদা উপজেলার পাঁচপীর এলাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. দিজেন্দ্র নাথ রায়ের সভাপতিত্বে আয়োজিত প্রার্থনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড়-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রেমাশিষ রায় প্রধান, বোদা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অখিল চন্দ্র ঘোষ সীসা, দেবীডুবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায়, পাঁচপীর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অজয় কুমার রায়, পামুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিভূষণ রায়সহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নেতারা।
বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্র ও আপসহীন রাজনীতির প্রতীক। তার শাসনামলে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ন্যায়ভিত্তিক শাসন ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত ছিল। গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।
অনুষ্ঠানে বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার পূজামণ্ডপের পুরোহিত, সভাপতি-সম্পাদকসহ প্রায় দুই হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে, যা এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। পরবর্তীতে তাদের একই কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে ছেলে মারা যান এবং মাত্র তিন ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন তার মা। মৃতরা হলেন সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের মৃত রুপলালের ছেলে কালু শেখ (৫৫) এবং তার মা ময়না বেগম (৭২)। পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন কালু শেখ। জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শোকে ভেঙে পড়েন মা ময়না বেগম। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে ওই রাতেই তিনিও মারা যান। স্থানীয় ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া বলেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মা-ছেলের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। সকালে জানাজা শেষে তাদের পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী পিঠা মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। সৈয়দপুর ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে বুধবার (১৫ এপ্রিল) মেলার দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে। ‘আমরা একসাথে’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলা চলবে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের এলাকা থেকেও বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী এতে অংশ নিচ্ছেন। মেলায় প্রায় ৭০টি স্টলে দেশীয় ও আধুনিক নানা পণ্যের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পিঠার সমাহার রয়েছে। ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা, দুধচিড়া ছাড়াও কেক, আচার ও হালকা খাবারের স্টলও রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, মেলার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। তারা জানান, পিঠা সংস্কৃতির ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
রাজধানীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে ব্যবসায়ীদের জন্য তালিকাভুক্ত লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) সংলগ্ন ফুটপাত দখলমুক্ত করে নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নগর ব্যবস্থাপনায় নাগরিক ও সিটি কর্পোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ফুটপাতে ব্যবসা করতে হলে এখন থেকে অনুমোদন ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে হবে। একই সঙ্গে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ও গাইডলাইন নির্ধারণ করা হবে, যাতে অবৈধ দখল ও অগোছালো বাজার ব্যবস্থা বন্ধ করা যায়। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, ফুটপাত দখলমুক্ত উদ্যোগ টেকসই করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে জরিপ কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি নাগরিকদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রাস্তায় বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে, নইলে নগর ব্যবস্থাপনা টেকসই করা সম্ভব নয়।