জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ঝিনাইদহে জেলা পুলিশের বিশেষ টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১১ টাই জেলা পুলিশের আয়োজনে শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে টহল ও চেকপোস্ট বসানো হয়।

বিশেষ করে শহরের পায়রাচত্বর,চুয়াডাঙ্গা স্টান্ড, বাসটার্মিনাল, হামদহ, আরাপপুর সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্নস্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। নির্বাচনী সময় কোন ধরনের সহিংসতা, নাশকতা, ও অবৈধ কর্মকান্ড যেন সংগঠিত না হয় সেজন্য বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। এসময় কাগজপত্রবিহীন যানবাহন, অবৈধ মোটরসাইকেল ও সন্দেহজনক যানচলাচলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। আগামী পনেরো দিন চলবে এ অভিযান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাসিনা খান চৌধুরীর প্রার্থিতা বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেছে। আগারগাঁওয়ের ইসি কার্যালয়ে আপিল শুনানি শেষে তার মনোনয়নপত্র পুনরায় স্বীকৃতি পায়। এর আগে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় মাত্র এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের জটিলতা দেখিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। আপিলের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত খারিজ হয়ে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত হয়। হাসিনা খান চৌধুরী নান্দাইলের সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম খুররম খানের স্ত্রী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসের খান চৌধুরীর মা। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবর নান্দাইলের ভোটার ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে, যা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চললেও টাঙ্গাইল জেলা তথ্য অফিসের কার্যক্রম চোখে পড়েনি। জেলা জুড়ে ভোটার সচেতনতার জন্য কোনো মাইকিং, ডিজিটাল ডিসপ্লে বা ব্যানার দেখা যায়নি। এতে সাধারণ মানুষ বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলের ভোটাররা গণভোট ও ভোটদানের নিয়মাবলী সম্পর্কে অবহিত নয়। স্থানীয়রা জানান, জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখা গেছে, তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে গণভোটের সমর্থনে বা তথ্যবহুল প্রচারণা তেমন দেখা যায়নি। কিছু নির্বাচনী ব্যানার ও প্রচারণা হয়েছে কেবল সদর উপজেলার দুই-তিনটি স্থানে। গ্রামীণ ভোটাররা জানেন না হ্যাঁ বা না ভোটের প্রভাব কী হতে পারে। জেলা তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা তাহলিমা জান্নাত বলেন, তারা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে জেলা ও উপজেলার বাইরে কার্যকর কোনো প্রচারণা করা হয়নি। সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, ৩৬০টি ব্যানার ও এক লাখ ৮০ হাজার লিফলেট বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ব্যানারগুলো জেলা ও উপজেলা সদরে টানানো হয়েছে, এবং লিফলেট দ্রুত বিতরণ করা হবে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এবং ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা না হলে ভোটে অংশগ্রহণের হার নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
পঞ্চগড়-২ আসনের বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের পুরোহিত, সভাপতি ও সম্পাদকদের যৌথ উদ্যোগে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বোদা উপজেলার পাঁচপীর এলাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডা. দিজেন্দ্র নাথ রায়ের সভাপতিত্বে আয়োজিত প্রার্থনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড়-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ। সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রেমাশিষ রায় প্রধান, বোদা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অখিল চন্দ্র ঘোষ সীসা, দেবীডুবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায়, পাঁচপীর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অজয় কুমার রায়, পামুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিভূষণ রায়সহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নেতারা। বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্র ও আপসহীন রাজনীতির প্রতীক। তার শাসনামলে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ন্যায়ভিত্তিক শাসন ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত ছিল। গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে। অনুষ্ঠানে বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার পূজামণ্ডপের পুরোহিত, সভাপতি-সম্পাদকসহ প্রায় দুই হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।